বিরাটদের ‘বাস্তবভঙ্গ’, কাটা ঘায়ে বার্নলের মতো সোনা জিতলেন দ্যুতি!

Thursday, July 11th, 2019

 কিশোর ঘোষ:

কাটা ঘায়ে বার্নলের মতো সোনা জিতলেন ভারতীয় স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ! প্রথম ভারতীয় হিসেবে সামার ইউনিভার্সিটি গেমসের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জিতলেন তিনি। এবার যা অনুষ্টিত হয়েছিল ইতালির নাপলসে। নিশ্চয়ই ভাবছেন, খেলার খবরের হিসেবে এ লেখার প্রথম বাক্য খানিক জটিল হল। কথাটা ঠিক, কিন্তু গতকাল ম্যাঞ্চেস্টারের মাঠে যেভাবে বিরাট কোহলিদের হার হয়েছে তাতে করে এরচেয়ে সহজ বাক্য মাথায় এল না!

Ads code goes here

আসলে ‘সহজ’ মাঝে মাঝে জটিল হয়ে ওঠে, অপরপক্ষে ‘জটিল’কে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অনেক সময় বেজায় ‘সহজ’ বলে ঠাওর হয়। এই যেমন, সক্কলে ভেবেছিল, শাস্ত্রী স্যারের ভারত এবার অতি সহজে জিতে নেবে কাপ। যে দলের শুরুতে রো-হিট ম্যান রয়েছে, আছে সমসময়ের বিশ্বের সেরা ব্যাট কোহলি, তারপর আপনার বুমরার মতো বল, ক্যাপটেন কুলের মতো ফিনিসার, পন্থের মতো প্রতিভা। সত্যি বলতে, এমন ভারতীয় দল খুব কম এসেছে, যে দলের প্রত্যেকে নিজদের ভূমিকায় দারুণ। সবচেয়ে বড় কথা, সাফল্যের পরীক্ষাতেও তো উত্তীর্ণ এরা। গত দু’আড়াই বছরে নিয়মিত জিতেছে নীল জার্সি। অন্তত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। অথচ সেই দল সহজে জেতা তো দূর, বুধবার খেলাটাকে এতদূর জটিল করে ফেলল যে জাদেজা আর ধোনির লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না! এসব দেখে সবচেয়ে জটিল অবস্থা হল ভারতীয় দর্শকের। মানুষগুলো ম্যাচ শেষেও স্ট্যান্ড ছাড়ছিল না। তখনও মাথায় হাত দিয়ে বসে। চোখেমুখে প্রশ্ন—এটা কী হল! কী দেখলাম? বাস্তব না স্বপ্ন? এই প্রসঙ্গে বলি, আজ সকালে দেখলাম, একটি নামি দৈনিক বড় বড় অক্ষরে প্রথম পাতায় হেড করেছে—‘স্বপ্নভঙ্গ’। সম্পূর্ণ ভুল হেডিং।

গতকালকের ভারতের হার স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং বাস্তবভঙ্গ। গতকালকের ম্যাচটাকেই কি বরং আপনার স্বপ্ন মনে হচ্ছে না? মনে হচ্ছে না, আপনি সেই ফ্যান, যে দলকে অতিরিক্ত ভালোবাসে, সারাদিন সেমি-ফাইনালে কী হবে… খুব ভেবেছেন। ফলে রাতে আপনার দখল নিয়েছে অবদমন। সে স্বপ্ন দেখিয়েছে—স্বপ্ন না, দুঃস্বপ্ন দেখিয়েছে—ভারতের জঘন্য হার! যে খেলায় বাঘেরা ইঁদুরে পরিণত হল, সাগর শুকিয়ে গেল, পাহাড় মুখ থুবড়ে পড়ল সমতলে!

গতকাল খেলা শেষে অফিস ফেরত যে ভদ্রলোকের সঙ্গে ভিড় লোকাল ট্রেনে দেখা হয়েছিল, যার সঙ্গে হালকা চালে কথা বলতে বলতে মধ্যমগ্রাম পৌঁছলাম। তাঁর চোখেমুখে আমি এই আশ্চর্য দুঃস্বপ্নের ঝড়ে ওড়া ধুলো, শুকনো পাতা, মরা ডালের টুকরো দেখেছি। বেচারা প্রাণপন শান্তনা খুঁজছিল! মানুষটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এই হার, একটু পরেই যেন কেঁদে ফেলবে! আমার ভাগ্নে শঙ্খ যেভাবে আর্জেন্টিনা, তদুপরি মেসির হার হলেই হাউমাউ কেঁদে ভাসায়, সেই ভাবে। বয়স্ক মানুষটাকে এটাসেটা অনেক কথা বলে ভুলিয়ে রাখলাম আমি। যতক্ষণ ওই ট্রেনে একসঙ্গে ছিলাম। তখনও অবশ্য দ্যুতির সোনার সাফল্যের কথা জানি না। জানি না, যে মেয়েটা নিজেকে সমকামী ঘোষণা করায় কদিন আগেই হেনস্থার স্বীকার হয়েছিল সমাজের, সে জিতেছে লড়াই!

জানবার কথাও নয়। ভারতে ক্রিকেট ছাড়া সব স্পোর্টস দুয়োরানি। আমরা হয়তো এখনও ভেবে উঠতে পারিনি লিয়েন্ডার পেজের কীর্তি কত দামি, সানিয়া মির্জা আমাদের কাছে সেক্সি সুন্দরী হয়েই রইল! ব্যাডমিন্টনের উমেন সেক্টরে সাইনা নেওহাল আর পিভি সিন্ধুর হাতযশে আমরাই যে বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি, হকিতে নামতে নামতে এখনও যে আমরা বিশ্ব র‍্যাংকিং-এ ৫ থেকে ৭-এর মধ্যেই ঘোরাফেরা করি। না, এসব ভাবব না আমরা, জানব না আমরা।

আমরা ক্রিকেট দেখব। শুধুই ক্রিকেট। পয়সা দেব ক্রিকেটপতিদের। আইসিসি আর বিসিসিআই-এর ফাঁদ পাতা ভূবনেই আমাদের হাসি-কান্নার শেষ ও শুরু। ফলে দ্যুতি চাঁদ যতই এমন কাণ্ড করুক যা আগে কখনও কোনও ভারতীয় পারেনি। (দ্যুতির আগে কোনও ভারতীয় খেলোয়াড় ইউনিভার্সিটি গেমসের ১০০ মিটারের ফাইনাল পর্যন্ত উঠতে পারেননি। সেখানে দ্যুতি সোনা জিতেছেন।) তবুও, তথাপি আমরা ম্যানচেস্টারের কাটা ঘা ভুলতে পারব না নাপলসের সাফল্যে। সোনার মেয়ের গড়া ইতিহাসকে ছোট করছি না, কিন্তু এটাই সত্যি।

Spread the love

Best Bengali News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is Bengal's popular online news portal which offers the latest news Best hindi News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is popular online news portal which offers the latest news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement