অণু গল্প, অন্য আবহবিকার  

Sunday, February 24th, 2019

  উত্তম বিশ্বাস

সূর্য ডুবে গেলেই ঘোলাটে একটা পেতলের ঘটি পাহাড়ের ওই ওপর চুড়ো থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে এসে থামে ঘাসে ঢাকা উপত্যকার কোলে, যেখানে সরু এক শুষ্ক বরফের নদী দুই পাহাড়কে বিভাজিত করেছে, ঠিক সেইখানে। কিছুদিন হল এর তীরে দু’জন মহিষপালক তাঁবু ফেলেছে। ওরা একে অপরকে গরম রাখবার জন্যে তাঁবুর তলায় জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে। আজও ছিল।

Ads code goes here

এখানে এখন বেশ শীত শীত! আজ গড়িয়ে আসা ঘটিটার ভেতর থেকে হালকা সুতোর মতো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছিল। তুষার ঝাঁকালে যেমন আসে, ঠিক তেমন ধোঁয়া! মাঝেমাঝে ঘাসের শুকনো ফল ফাটার মচমচ আওয়াজ আর চিরচেনা সেই ছন্দও শোনা যাচ্ছিল। রাত্রি আরও একটু নিবিড় হতেই দপ করে জ্বলে উঠল পাহাড়ের আকাশ। তাঁবুর বাইরে বাঁধা মহিষগুলোর অস্থির দাপাদাপিতে ওদের আয়েশ ছুটে গেল। চিৎ ও উপুড় চোখগুলো তাঁবুর ফুটোয় রেখে চিৎকার করে উঠল, “আরে এ কেয়া! ইতনা রাতমে তবালে মে আগ ক্যায়সে? আরে দেখ তো জারা, লাগতা হ্যাঁয় দাঙ্গা লাগ গ্যায়া কাঁহিপর?” প্রথমজন কিছুটা ভয় পেলেও, সে তাঁবুর মধ্যে মুখ লুকিয়ে বিদঘুটে সব শব্দ করে করে পশুদের ডাকতে লাগল। দ্বিতীয়জন বিছানায় বারকয়েক মোচড় মেরে ঠেলে উঠল। দু’জনের চোখেই তখন তারাবাজি। দাঙ্গা কোথায়? এতো রীতিমত পাহাড় পোড়ানো দামুন! দেখল, সত্যি সত্যি একটি মহিলা ঘুমন্তগাভীটির তলপেটে হাত বুলাচ্ছে! পাকা গাবের মতো ওর আবক্ষ গড়ন। আর ঠোঁটের আগায় আদিম তৃষ্ণার মতো একচিলতে হাসি। বহুকালের ক্ষুধা নিয়ে আদিম গুহাচারি মানব যেভাবে জ্বলন্ত কাঠকয়লা দিয়ে দেওয়ালের গায়ে ভোজনবিলাসের ছবিতে যে এক ইঙ্গিত এঁকেছিল, ঠিক সেরকম!
ওদের মধ্যে একজন খেঁকিয়ে উঠল,-“গাভীটির সবে আটমাস। হাত বুলিয়ে লাভ নেই! তাছাড়া চাইলেই কি আর দুধ…!”
মেয়েটি যেন শুনেও শুনল না। এরপর মহিষপালকদের মুখ থেকে একের পর এক উড়ে এল উত্তপ্ত উল্কা, “এটা আঠাজখমটিলা। এখানে ঔরতলোগ আসলে কী পরিণতি হয় জানো না দুধওয়ালী?”
রাতের পাহাড়িফুলের মতো মেয়েটির শুকনো অথচ সুবাসিত কণ্ঠে স্বরলিপি ভেসে এল, “আমি গোয়ালিনী নই। আমার সোয়ামি রাবারচাষি। গেল শীতে এখানে তরাইয়ে এল, আর ফেরেনি! গঁদগাছের বাগানটা কোথায় দ্যাখানো যাবে?” কিন্তু কেউ উৎসাহ দেখাল না। কেবলমাত্র তাঁবুর ভেতর থেকে মেরুশৃগালের মতো কিটকিটে হাসির হল্কা এসে মেয়েটির সর্বশরীরকে আরও হিমশীতল করে দিয়ে গেল।
মুহূর্তের মধ্যে আবারও প্রবল তুষারপাত শুরু হয়ে গেল। গবাদি পশুগুলো কে কোথায় ছুটে গেল বোঝা গেল না। তাঁবুটি জমতে জমতে পাথর হয়ে যাওয়ার আগে ওর মধ্যে থেকে একজন মহিষপালকের একটি হাত হঠাৎ যেন চিৎকার করে কী একটা চাইল। ঘটিটি কুড়িয়ে নিয়ে মহিলাটি তার বুকের কাপড় সরাতেই পাহাড়তলির সমস্ত আগুনগিরি ফেটে তপ্ত লাভার হড়পা নেমে এল!

 

Spread the love

Best Bengali News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is Bengal's popular online news portal which offers the latest news Best hindi News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is popular online news portal which offers the latest news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement