Breaking News
Home / TRENDING / চাপের কৌশলে সব্যসাচীকে ছেঁটে ফেলতে চায় তৃণমূল

চাপের কৌশলে সব্যসাচীকে ছেঁটে ফেলতে চায় তৃণমূল

নীল রায়

পদত্যাগের পর সব্যসাচী দত্তর ওপর তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়া কাউন্সিলর ও বিধায়ক পদ ছাড়তে চাপ দিতে পারে দল। বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগপত্র বিধাননগরের চেয়ারপারসন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছে জমা পড়ার পর সেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই কাজের সূচনা করেছেন পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিজের পদত্যাগের সঙ্গে সব্যসাচী দত্ত তুলনা টেনেছেন রবি ঠাকুরের নাইট উপাধি ত্যাগ করার। উদাহরণ টেনেছেন নেতাজীর আইসিএস পদ থেকে ইস্তফা প্রসঙ্গের। তাই তিনি ওই বরেণ্য ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়া বিধায়ক ও কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিন।” তাপস রায় তৃণমূলের অন্যতম ও পুরোনো মুখ বটে। তৃণমূলের এই সঙ্কটপূর্ণ মূহুর্তে প্রথম সারিতে এসে রাজনৈতিক ভাবে বিজেপিকে জবাব দিচ্ছেন তিনি। তাঁর মুখ দিয়ে এমন কথা বলিয়ে আসলে সব্যসাচীকে সরাসরি দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কারণ নিজের দু’পাতার ইস্তফা পত্রে পদত্যাগের ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ নেতাজী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তুলনা টেনেছেন সব্যসাচী দত্ত। চাপ তৈরি করতে এদিন রাতেই তৃণমূল সব্যসাচী দত্তর একটি অডিও টেপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, ওই অডিওটিতে সব্যসাচী দত্ত এক ব্যক্তির থেকে টাকা চাইছেন। যদিও, সত্যতা যাচাই করেনি চ্যানেল হিন্দুস্তান।

গত কয়েক মাস যাবৎ সব্যসাচীর কাজে বেজায় অসন্তুষ্ট ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বার বার দল বিরোধী অবস্থান বিরোধী বক্তব্য এবং বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কারণে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর। যার জেরে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাঁকে সম্প্রতি বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রথমদফায় আদালতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থার বিরোধিতার করলেও, শেষমেষ পদত্যাগ করেছেন রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক।

তবে হাজারো বিরোধিতা সত্ত্বেও এখনও দল ছাড়ার কথা বলেননি সব্যসাচী দত্ত। কিন্তু, তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে দলে রেখে আর বিড়ম্বনা বাড়াতে নারাজ। বিধাননগরের মেয়রের পদ ছাড়ার পর তাই কাউন্সিলর ও বিধায়ক পদ ছাড়তে তাঁর ওপর কৌশলে চাপ তৈরি করতে চাইছে জোড়া ফুল শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব্যসাচীও বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে চাপ পাল্টা চাপের খেলা এখনই শেষ করতে চাইবেন না। বরং তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে বহিষ্কার করুক। কারণ, সব্যসাচী দত্তকে তৃণমূল বহিষ্কার করলে তাঁর কাউন্সিলর ও বিধায়কপদ দুইই থেকে যাবে। সঙ্গে অতীত দিনের তৃণমূল নেতাদের বহিষ্কার করছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বার্তাটিও স্পষ্ট করা যাবে জনমানসে। সঙ্গে সহানুভূতির ফায়দাও পাবেন বিধাননগরের সদ্য পদত্যাগী মেয়র।

Spread the love

Check Also

আজ মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা সহ দেশের ৬৪টি বিধানসভা ও ২টি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদন:   আজ কড়া নিরাপত্তায় চলছে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাকনের ভোট গ্রহণ। সকাল …

নিঃশব্দে শতবর্ষ উদযাপন সিদ্ধার্থশংকর রায়ের

নীল রায়। নিঃশব্দে পালিত হল প্রয়াত ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায়ের (Siddharthshankar Roy) শততম জন্মদিন। …

দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পোস্টারে মমতার ছবি কেন? প্রশ্ন তুললেন বাবুল সুপ্রিয়

নীল রায়। দুর্গাপুজোর কার্নিভাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মাত্রাতিরিক্ত ছবির ব্যবহার নিয়ে সরব হলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *