Breaking News
Home / সান-ডে ক্যাফে / গল্প / বামেশ্বরের সেকেন্ড ম্যারেজ

বামেশ্বরের সেকেন্ড ম্যারেজ

 নীলার্ণব চক্রবর্তী

রোজই দ্বিপ্রহরে ঝিলে স্নান করতে যান বামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পিছন পিছন ধাওয়া করে তিনটে মেয়ে চোর।
বামেশ্বরের বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। কিন্তু তার রূপে চোখ ধাঁধিয়ে ওঠে সব বয়সের রমণীরই। ফর্সা টুকটুকে তার রং। শরীরের পেশীগুলিতে এতটুকু শিথিলতার চিহ্ন নেই। আবার বেশি বেশি পেশীও নয়, যেখানে যতটুকু দরকার, ততটাই। মুখমণ্ডল টানটান, আর্যসুলভ দীর্ঘ তীক্ষ্ণ নাসা। পাথরে খোদাই করা দুটো চোখ, আর ঠোঁটদুটি পাতলা ফিনফিনে, যেন তুলি দিয়ে পটে আঁকা। বামেশ্বরের চুলগুলি কিন্তু ধবধবে ফরসা। এটাকে যদি মন্দ গুণ ভাবা হয়, তাহলে নম্বর একেবারে গোলগাপ্পা। এই ফর্সা চুলের জন্যই বামেশ্বরের রূপ আরও খোলতাই হয়ে উঠেছে। এই সাদা ঢেউ খেলানো চুল যেন বামেশ্বরের বয়স্ক সৌন্দর্যের গরিমা।
বামেশ্বরের বাড়ি থেকে ঝিলের দূরত্ব মিনিট পাঁচেকের। বামেশ্বর শীতগ্রীষ্ম রোজই নিজেদের বাড়ির লাল রঙের বারান্দার রকে একটা সাদা ধুতি দোফেরতা করে পরে বসে, কষে তেল মালিশ করেন মিনিট কুড়ি। তারপর একটা হলুদ টাওয়েল কাঁধে ফেলে ও ডানহাতে একটি ইস্তিরি করা ধুতি ঝুলিয়ে এবং বাঁ-হাতের মুঠোয় একটি বিশুদ্ধ চন্দনসাবান নিয়ে রওনা দেন ঝিলের উদ্দেশে। তিনটে মেয়ে চোরও ওমনি রওনা দেয় তার পিছু পিছু।
এই তিনজনই বামেশ্বরের চিত্ত চুরি করতে চেয়েছিল। তিনজনই লাল রঙের লিফাফায় সুগন্ধি প্রেমপত্তর দিয়েছিল বামেশ্বরকে। কিন্তু বিধি পুরো বাম হয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই। বামেশ্বর এই বয়সে আর যে কারুর প্রেমে সাড়া দিতে চান না, স্পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রেমপত্র দেওয়ার কারণ কি ছিল এই এসএমএস হোয়্যাটস অ্যাপ এজে? কারণটা হল— বাম মোবাইল ব্যবহারই করেন না। এ ক্ষেত্রে তিনি অতি-উগ্র বামপন্থী। তার বিশ্বাস, মোবাইল একটি বাহুল্য বিশেষ। গরিবের পয়সা হরণ করার বুবিট্র্যাপ। বাড়িতে ল্যান্ডফোন অবশ্য আছে তার, কিন্তু তা বারো মাসের মধ্যে তেরো মাসই সংজ্ঞাহীন হয়ে থাকে। কারণ, বামেশ্বর ল্যান্ডফোন পুনর্জাগরণের কোনও চেষ্টাই করেন না।
যা হোক, তিনটে মেয়ের প্রায় এক রকম সুগন্ধি চিঠি পেয়ে বামেশ্বর হাসবেন না কাঁদবেন প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি। চিত্ত চাঞ্চল্য যে একেবারে ঘটেনি তা হলফ করে বলা যাবে না। কিন্তু পাঁচ বছর আগে স্ত্রী গত হওয়ার পর নিজের কাছেই তিনি শপথ নেন, আর কোনও নারীতে মন ঢালবেন না। নিজের শপথ বামেশ্বর ভাঙতে রাজি নন। অন্তত একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলতে চান বাকিটা জীবনের পথ। তাই ‘না’ ছাড়া আর কিছুই হয়নি ওই তিন পত্রবোমার প্রত্যুত্তর।
কিন্তু প্রেম প্রস্তাবে ‘না’ জবাব পেয়ে তিন রমণী যে তীব্র চটে উঠেছে বামেশ্বরের উপর! বামের কাম তামাম করতে তারা হাত ধুয়ে লেগে গেছে। তারা ঠিক করেছে স্নানের সময় বামেশ্বরকে তিতিবিরক্ত করে তুলবে। কোনও দিন বামের টাওয়েল, কোনও দিন সাবান, কোনও দিন আবার তার ধুতি লুকিয়ে হবে এই বিরক্তকর বিধ্বংসী ইনিংস। এবার তিন কন্যার পরিচয় খানিক দেওয়া যাক।
এই তিনটি মেয়ের নাম— রিমিকি, ঝনক ও ঝোরা। তিনজনই বাইশ। বামেশ্বরের বাড়ির কাছেই পাশাপাশি তিন বাড়ির বাসিন্দা তারা। বামেশ্বর অঙ্কে স্নাতকোত্তর এবং ম্যাথের মারকাটারি টিচার। তিন জনকেই তিনি অঙ্ক করাতেন। তখনই শুরু প্রেমের লসাগু, গসাগু। ক্রমে ক্রমে তা ক্যালকুলাস। কিন্তু টিচার-প্রেমাস্পদকে নিয়ে তিনজনের মধ্যে কোনও ঝগড়াঝাটি নৈব নৈব চ। তারা বামকে লভলেটার পাঠানোর আগে ঠিকও করে নেয়, যার ভাগ্যে রত্নটি জুটবে, অপর দুজন বন্ধুকৃত্য করবে। বন্ধুর বাবা-মা যাতে বামেশ্বরকে জামাই হিসাবে মেনে নেন, সে চেষ্টায় বডি ফেলবে। কিন্তু বামেশ্বর যে সব পাশা পালটে দেবেন, এ ভাবে কারওর ভাগ্যই যে ভরবেন না, তা কে জানত!


তো, প্রথম দিন সাবান গায়েব হল। ঝিলের ঘাটে বসে বেশ আয়েশ করে তিনি সাবান ঘষেছেন সারা গায়ে, তারপর মুখে। তারপর সাবানটি কেসে রেখে চলছে দেহ কচলানো। স্বাভাবিক ভাবেই চোখ বোজা। সেই সময় সেটি সরিয়ে নিল তিন মেয়ের একজন। বাম বোজা চোখে কেসে বাম হাত দিয়ে দেখেন বস্তুটির বদলে সাবানের তলতলে জল। ব্যাস, ‘সাবান কই গেল, কই গেল আমার স্যান্ডেল সোপ’ করে চিত্কার-চেঁচামেচি জু়ড়ে দিলেন বামবাবু। ঘাটে একজন ছিল, যে কিনা তার প্রতিবেশী, এ সব দেখে সে মিটিমিটি হাসতে লাগল, এবং সেই হাসি দেখে আরও চটে উঠলেন বামেশ্বর। বিরক্তিতে কোনও রকমে স্নান সেরে উঠে গা-টা প্রায় না মুছেই বাড়ির দিকে পা বাড়িয়েছেন কি বাড়াননি, দেখেন ঘাটের সামনেই ঘাসের উপর তার দামি স্যান্ডেল সোপ গড়াগড়ি খাচ্ছে। বামেশ্বর সাবানটা তুলে নিয়ে দেখেন, সাবানের উপর একটা চাবির ছাপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
এর ঠিক দিন দুয়েক পর, স্নানটান সেরে বামেশ্বর দেখেন তার টাওয়েল উধাও। গা-ভর্তি জল ছলছল করছে, কী যে অসহায় অবস্থা! কী করবেন এবার! ঘাটে থাকা তার ওই প্রতিবেশী তো সেই দৃশ্য দেখে মুচকি মুচকি…, বামবাবুর ক্রোধে ঘি। তিনি তারস্বরে চিৎকার করতে লাগলেন— ‘আমার টাওয়েল ফিরিয়ে দাও। ফিরিয়ে দাও।’ চিৎকারে কোনও কাজ হল না। উলটে প্রতিবেশীর হাসি বেড়ে গেল। বেগতিক দেখে বামেশ্বর স্নান সেরে পরার ধুতিটা দিয়েই গা মুছে নিলেন। তারপর হঠাৎ পিছন থেকে প্রতিবেশী বলে উঠল, ‘ওই তো দাদা আপনার টাওয়েল!’ বামবাবু দেখলেন, বেশ যত্ন করে ভাঁজ করে কে যেন তার টাওয়েল ঘাট থেকে অল্প দূরে একটা রকের এককোণে রেখে দিয়ে গেছে। আর সেটা দেখিয়ে তার প্রতিবেশীটি দেঁতো হাসিতে মুখ ভরিয়ে দিচ্ছে। রাগে গনগনে বামেশ্বর টাওয়েল সংগ্রহ করে হনহন করে হাঁটা লাগালেন বাড়ির দিকে। যেতে যেতে টাওয়েলটা কাঁধে রেখতেই টুং করে কী একটা পড়ল রাস্তায়। কুড়িয়ে নিয়ে দেখেন হাতের একটা চুড়ি।
এর পর কয়েকদিন বামেশ্বরের স্নানে কোনও অঘটন ঘটল না। ভাবলেন, সব ঠিক হ্যায়। কিন্তু এই ভাবনা যে ভুল তা টের পেলেন সত্বর। এবার স্নান সেরে উঠে দেখেন ঘাটে রাখা তার ধুতিটি গায়েব। আবার! এবং প্রতিবেশীটির মুখে সেই দুষ্টুমিষ্টি হাসির প্রলেপ। তিনি মাথায় হাত দিয়ে প্রথমে ধপ করে বসে পড়লেন। তারপর শুরু হল তর্জন-গর্জনের পালা। এবং কিছুক্ষণ বাদে ধুতিটিকে ঘাটের পাশে একটা গাছের নিচে আবিষ্কার করলেন বামেশ্বর। ধুতিটি তুলে আর কোনও দিকে তাকালেন না, রাগে তেলেবেগুন হয়ে সটান ফিরলেন বাড়ি। তারপর ধুতি পরতে যেতেই সেটার মধ্য থেকে কতগুলি নুড়িপাথর ঝরে ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।
এর পর, দিন পাঁচেকের গ্যাপ। কোনও অঘটন নেই। তারপর ফের শুরু বামেশ্বরের সঙ্গে স্নানকালীন চরম কাণ্ড, এবং শুরু ধাপে ধাপে ঠিক আগের মতো করেই। এইবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার পর, বামেশ্বরের বুঝতে পারলেন এসব কারা ঘটাচ্ছে। বুঝতে পারলেন, তার প্রেমপ্রস্তাব ফেরানোর পাল্টা দিচ্ছে ওই তিনটে মেয়েই।
এবং হঠাৎই তার মনও পরিবর্তিত হল। তিনি ভাবতে লাগলেন, যে ভালবাসা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা তো একেবারে আগমার্কা খাঁটি। যদি না হত, তাহলে তো এমন ভাবে মেয়ে তিনটে তার পিছনে পড়ে থাকত না। মনে হতে থাকল, তার স্ত্রী গত হয়েছেন, কিন্তু নারীর প্রেম পাওয়ার বাসনা তো তার গত হতে পারে না। তাছাড়া তিনি কবে কোন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা আঁকড়ে ধরে কেনই বা থাকবেন! প্রবাদই আছে, প্রতিজ্ঞা করা হয়, ভাঙারই জন্য। বিয়ে না করার পণটা এবার ভাঙা কি উচিত নয়!
মনে মনে পণ ভাঙলেন বামেশ্বর। তিন জনের মধ্যে একজনকে সিলেক্টও করলেন। কিন্তু বলবেন কী ভাবে? এক হতে পারে মেয়েটির বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাবটি দেওয়া। কিন্তু সেটা এ ক্ষেত্রে মোটেই শোভন এবং নিরাপদ হবে না। কারণ, তার মতো এত বয়েসী মানুষের কাছ থেকে মেয়ের পাণীপ্রার্থনা শুনে বামামায়ের রূপ কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। দু-চার ঘা তার পিঠে পড়লেও বলার বিশেষ কিছু থাকবে না। মেয়েটিকে ডেকে সামনাসামনি বলা যেতে পারে। কিন্তু সে বড় লজ্জার ব্যাপার। এই বয়সে ‘আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই’ বলতে গেলে সামনে দ্বিধার পাহাড় আসবেই। ফলে স্থির করলেন, তিন মেয়েদের খেলার মধ্যে ঢুকে পড়বেন। আর উত্তরও দেবেন, খেলারই ভিতরে।
তো, কম্পাসের কাঁটা দিয়ে বেশ ডিপ করে সাবানের একপিঠে যদিদং ও অন্য পিঠে হৃদয়ং লিখে নিয়ে পরদিন থেকে বামেশ্বর স্নানে যেতে শুরু করলেন।
তিন মেয়ের খেলাটা তো চলছিলই। একদিন যথাক্রমে সাবানের দান এল। চুরি হয়ে গেল তার স্যান্ডেল সোপ।
যে মেয়ে স্যান্ডেল সোপ চুরি করে ও চাবির চিহ্ন এঁকে ফেরত দেয়, তার কাছে এই বার্তাও চলে গেল যে, বামেশ্বর তাকে বিয়ে করতে একপায়ে খাড়া।
এর পরের ধাপটায় বামেশ্বরকে আর কষ্ট করতে হল না। ওই মেয়ের বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মাকে মানানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল বাকি দুই বন্ধু। যেমনটা স্থির করে রেখেছিল আগেই। তারা বামেশ্বরকে জানিয়েও দিয়ে গেল, ‘আপনাকে কিছু করতে হবে না, আমরা মাঠে নেমে পড়েছি। ওর বাবা-মাকে রাজি আমরা করাবোই।’
এরপর একদিন আকাশে মিঠে রোদ্দুর উঠল। একটা হালকা হাওয়া দুলিয়ে দিতে থাকল বামেশ্বরের বাড়ির আশপাশের গাছগুলোকে। দূর থেকে এক অজানা গান এসে বামেশ্বরের ঘরের ঘুলঘুলি দিয়ে ঢুকল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বামের মনে হতে থাকল, আরশি যেন তাকে চুমু খাচ্ছে। সেদিন বামেশ্বরের বাড়িতে এলেন ওই মেয়েটির বাবা-মা। মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।
‘বামবাবু, আপনি কীভাবে বুঝলেন যে, কে সাবান কে টাওয়েল আর কে ধুতি চুরি করছে?’ বামেশ্বর-রিমিকির বিয়ের দিন তাকে এক কোণে টেনে নিয়ে গিয়ে ঢোক গিলে এই প্রশ্ন করল সেই ঝিলপাড়ে বামেশ্বরের সহ-স্নানার্থী প্রতিবেশী ভদ্রলোক। যে কিনা মিটিমিটি হাসত বামেশ্বরের অসহায়তা দেখে। কোন মেয়ে কোনটি নিচ্ছে সে-ই জানত। সে-ই ছিল একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। কাউকে কোনও কথা না বলার জন্য, তাকে কাকুতিমিনতি করে অনুরোধ করেছিল ওই তিনটি মেয়ে। অনুরোধ রক্ষাও করেছিল প্রতিবেশী।
বামেশ্বর বললেন, ‘মেয়েরা কে কোন জন বোঝাতে ইঙ্গিত দিত, চুরির মাল ফেরানোর সঙ্গেই। যেমন ধুতি থেকে পড়েছিল নুড়িপাথর। যা ঝরনার প্রতীক। অর্থাৎ ধুতি চুরি করছে ঝোরা। টাওয়েল থেকে বেরিয়েছিল চুড়ি। চুড়ি মানে তো কাঁকন। কাঁকন সোনার হয়। মানে কনক কাঁকন। ঝনক ঝনক কনক কাঁকন বাজে…। গীতা দত্তের হিট গান। অর্থাৎ, টাওয়েল লুকোচ্ছে ঝনক। আর সাবানে আঁকা হচ্ছিল চাবি। রিমিকি নামের শেষ অক্ষর— কি। ‘key’ হল চাবির ইংরেজি। সাবান লুকোচ্ছিল রিমিকি। বুঝলেন কিনা!’
প্রতিবেশী লোকটা ঘাড় নাড়লেন খানিকক্ষণ ধরে। অঙ্ক-টিচার বামেশ্বরের বুদ্ধির তারিফ করলেন। তারপর কব্জি ডুবিয়ে খেয়েদেয়ে বাড়ি ফিরে মশারির ভিতর আসন করে বসে বামেশ্বরের সেকেন্ড মেরেজ গল্পটা পর্যায়-পরম্পরাক্রমে বলতে শুরু করে দিলেন নিজের বউকে।

Spread the love

Check Also

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’

 সৌমিককান্তি ঘোষ   কাশীনাথ বামুন গত সংখ্যার পর—   ২ “ঠাকুর এসেছে গো” উঠোন থেকে …

ধারাবাহিক ‘ভাষার ভাসান’, আজ ‘ভটভটিতে ভটচাজের বউ, আর্যর বাংলায় আগমন’

 সংকল্প সেনগুপ্ত: বাংলা ভাষা জীবনানন্দে (দাশ) যা সতীনাথে (ভাদুড়ী) তা না, হুতুমে যেমন তার থেকে …

রবিবারের কবিতা, মিহির সরকার

 মিহির সরকার মৃত  চন্দ্রবোড়া তখন আমাদের নিত্য-নতুন ভাঙা-গড়ার খেলা আমাদের নিয়ে বাতাসে বাতাসে রঙিন গল্প-বেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *