রবিবারের গল্প: কোহল সন্ধান

Sunday, July 28th, 2019

 সীমিতা মুখোপাধ্যায়:
যাদবপুর এইট-বি বাস স্ট্যান্ডের এত কাছে মাসে মাত্র সাত হাজার টাকায় দু-কামরার ফ্যাট ভাড়া পাওয়া আর স্বর্গ হাতে পাওয়া একই ব্যাপার। এলাকাটা বেশ পশ। লোকজনও ভালো। এইট-বি থেকে কোহলের অফিস অবধি ডিরেক্ট বাস। তাছাড়া, বাবা-মায়ের সঙ্গে আর থাকা যাচ্ছিল না। বিয়ে বিয়ে করে তাঁরা বড্ড পিছনে পড়েছিলেন। কোহলের বয়স তিরিশ ছুঁই ছুঁই, ইঞ্জিনিয়ার, ভালো চাকরি করে। কিন্তু, এইসব বিয়ে-টিয়ের ঝুট-ঝামেলায় সে পড়তে চায় না। এদিকে মেয়ে যতই প্রতিষ্ঠিত হোক না কেন, মধ্যবিত্ত বাঙালি মা-বাবার মেয়েকে পাত্রস্থ করতে না পারলে যেন রাতের ঘুম উড়ে যায়। কোহলের সঙ্গে এই নিয়ে খিটিমিটি লেগেই থাকত। এত অশান্তি আর ভালো লাগছিল না কোহলের। তারপর এরকম সস্তায় এমন ভালো একটা ফ্ল্যাট যখন পাওয়া গেল, কোহল বাধ্য হল সোদপুরের বাড়ি ছেড়ে যাদবপুরে এসে থাকতে।
বাড়ির মালিক বিদেশে থাকে। প্রতি মাসে ভাড়ার টাকাটা অনলাইন ট্রান্সফার করে দিতে হয়। কোহল একটু একটু করে জিনিসপত্র কিনে ফ্ল্যাটটা সাজাতে শুরু করেছে। এই ফ্ল্যাটটার সব ভালো। শুধু সমস্যা হচ্ছে, আসেপাশের কোনো ঘরে কেউ একটা কুকুর পুষেছে আর সেই কুকুরটা মাঝরাত্তিরে মাঝেমাঝে এমন ডেকে ওঠে যে কোহলের ঘুম ভেঙে যায়। একবার ঘুম ভেঙে গেলে কোহলের চট করে আর ঘুম আসতে চায় না। খুব ভোরে উঠতে হয় কোহলকে। ও কোনো পরিচারিকা রাখেনি। ঘরের সব কাজ নিজে হাতে করে। অফিসেও সারাদিন খুব খাটনি যায়। রাতে ঘুমটা ঠিকমতো না হলে কি আর চলে? ভীষণ বিরক্ত লাগে কোহলের। ভাবে, সকালে উঠে খোঁজ করবে কাদের ঘরে ওই কুকুরটা আছে, রাতে অমন চিৎকারই বা করে কেন। কিন্তু, পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে সেসব কথা আর মনে থাকে না। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও ঘরের মধ্যে কেমন যেন কুকুর কুকুর গন্ধ বের হয়। কোহলের সোদপুরের বাড়িতে আগে একটা গোল্ডেন রিট্রিভার ছিল। তাই কুকুরের গন্ধ কোহলের খুব চেনা।
এইভাবে বেশ চলছিল। কোহল একদিন অফিস থেকে ফিরছে। সেদিন অফিসে একটা পার্টি ছিল। ফিরতে একটু রাত হয়েছে। কোহলের ফ্ল্যাটের ঠিক পাশে একটা ছোট্ট পার্ক আছে। পার্কটাকে দেখলেই ওর সুমনের “পাড়ার ছোট্ট পার্ক” গানটা মনে পড়ে যায়। যদিও সেই পার্কে সে কোনোদিন সবুজ বাচ্চাদের আনাগোনা দেখেনি। এখনকার দিনে বাচ্চারা বোধহয় আর পার্কে খেলতে আসে না। ভোরে কয়েকজন মর্নিঙওয়াকে আসে, পার্কে গোল গোল চক্কর কাটে। কোহল কতবার ভেবেছে, কোনোদিন সে ওই পার্কের বেঞ্চে “একা চ্যাপলিন” সেজে বসবে। সে আর হয় না। আজ পার্কের দিকে তাকিয়ে ভারি অদ্ভুত লাগল কোহলের। প্রথমে তার মনে হল পার্কের একটি দোলনা এমনি এমনি দুলছে। পরক্ষণেই দেখে, না, দোলনার উপর কালো লম্বাটে মার্কা একটা কুকুর। ডোবারম্যান। গলায় বকলস। কুকুরের মালিককে কাছাকাছি কোথাও দেখা গেল না। কুকুরটা কী করে ওইভাবে দোলনায় দোল খাচ্ছে? এই দৃশ্যটা দেখে কোহলের বুকের মধ্যেটা ধড়াস করে উঠল। ব্যাপারটা কেমন যেন অস্বাভাবিক। পার্কের পাশ দিয়ে দ্রুত হেঁটে গেল কোহল। ঘরে ঢুকে বারান্দা থেকে আরেকবার পার্কের দিকে উঁকি মারল কোহল—দোলনা স্থির, কুকুরটাও আর নেই।
সেইদিনই রাত্রে হঠাৎ ঘুম ভেঙে মনে হল, ওর ডাইনিং হলে একটা কুকুর ফোঁসফোঁস, ঘোৎঘোৎ শব্দ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা শুঁকছে, ওটা শুঁকছে। ঘরে কুকুর ঢুকবে কী করে রে বাবা! ও তো ভালো করে সদর দরজা বন্ধ করে শুয়েছিল। তাড়াতাড়ি করে উঠে, ডাইনিং হলে গিয়ে আলো জ্বালাল। নাহ, কোত্থাও কিছু নেই। প্রত্যেক দিন এই মাঝরাতে কুকুর ডাকা, তার ওপর আজ পার্কে যা দেখল তাতে মনে হয় কোহলের মনে চাপ পড়েছে। এমনিতে অফিসে তো কম স্ট্রেস যায় না। তার ওপর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝামেলা। একজন সাইকিয়াস্ট্রিস্টকে যে দেখাবে তারই বা সময় কোথায়?
এরপর আরেকদিন, রাতে কুকুরের কান্নায় ওর ঘুম ভেঙে গেল। ঠিক যেন মনে হচ্ছিল একটা কুকুর ওর বিছানার পাশে বসে কাঁদছে। ঘুম ভাঙতেই সব ভোঁ-ভাঁ। চারিদিক নিস্তব্ধ। তবে কি ও স্বপ্ন দেখছিল? কোহল আবার পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ বাদে আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ঘুম ভাঙতেই দেখে কোনো শব্দ নেই। সেদিন রাতে কোহলের ঘুমের বারোটা বাজল। একবার করে ঘুমাচ্ছে আর কুকুরের কান্নায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা জ্বালা তো!
কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার এক কাণ্ড! প্রচণ্ড গরম পড়েছে। কোহল অফিস থেকে ফিরে রোজই আরেকবার করে স্নান করে। সেদিনও রাতে যথারীতি স্নান করতে ঢুকেছে। কোহল বাথরুমে এখনও একটা এক্সস্ট ফ্যান লাগিয়ে উঠতে পারেনি। সব খরচ তো একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। ওই ফ্যানের জায়গাটায় একটা গোল গর্ত। সেখান দিয়ে বাইরের অন্ধকার দেখা যাচ্ছে। কোহলের হঠাৎ যেন মনে হল, ওই গর্তটা দিয়ে কেউ উঁকি মারছে। চোখটা রগড়ে ভালো করে চেয়ে দেখে, সেই কালো ডোবারম্যান কুকুর উল্টো হয়ে ঝুলে আছে, গর্তের কাছে কুকুরটার মুখ। কোহল চমকে উঠল। এ কী করে সম্ভব? কোহলের ফ্ল্যাটটা তিনতলায়। তার ওপরে আরেকটা ফ্লোর আছে। কুকুরটা কোথা থেকে ঝুলে আছে? আর কীভাবেই বা? এই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা কোহল খুঁজে পেল না। সবটাই কি ওর মনের ভুল? নাহ, ও একদম স্পষ্ট দেখেছে। কোহল বিজ্ঞানের ছাত্রী। ওর ভূত-প্রেত-ঈশ্বর কিছুতেই বিশ্বাস নেই। তাও এই ঘটনার পর থেকে রাতে ওর বাথরুমে ঢুকতে খুব ভয় লাগত। ঢুকলেও এক্সস্ট ফ্যান লাগানোর জন্য ওই গোল গর্তটার দিকে পারতপক্ষে তাকাত না।
এদিকে এই কুকুরের উৎপাত দিন কে দিন বেড়েই চলেছে। মাঝরাতে কুকুর ডাকছে, কাঁদছে, ফোঁসফোঁস করছে, সারানঘর কুকুরের গন্ধে ভরে যাচ্ছে। কী যে ঘটছে কোহলের মাথায় কিছুই ঢুকছে না। ইদানীং, ওর খুব ভয় করে। রান্না করতে করতে মনে হয় একটা কালো ডোবারম্যান ওর পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। শুতে, বসতে সব সময় ভয়।
এরকম ভাবেই একদিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কোহলের মনে হচ্ছে, ঘরের মধ্যে একটা কুকুর ঘোরাফেরা করছে। ঘুম ভাঙতেই নাকে এল কুকুরের গায়ের গন্ধ। পাশ ফিরতেই আবছা আলোয় দেখতে পেল, ওর বেডরুমের দরজায় সেই কালো ডোবারম্যানটা দাঁড়িয়ে, চোখদুটো জ্বলছে, কুঁইকুঁই শব্দ করছে। কোহল উঠে বসে এক দৃষ্টে কুকুরটার দিকে তাকিয়ে রইল। কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। কুকুরটাও কোহলের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ এভাবে কাটল। তারপর ডোবারম্যানটা ডাইনিং হলের দিকে চলে গেল। কোহল বিছানা ছেড়ে উঠে সব ঘরে আলো জ্বালিয়ে দিল। বলা বাহুল্য, কুকুরটা আর নেই। কুকুরটা ওর ঘরে ঢোকে কোথা দিয়ে আর বেরিয়েই বা যায় কোথা দিয়ে? দেখে তো মনে হয় কারোর পোষা। সে রাত্রে কোহলের আর ঘুম হল না।
পরদিন সকাল হতেই কোহল ঠিক করল, অন্য সব ফ্ল্যাটে গিয়ে গিয়ে ওই কুকুরটার খোঁজ করবে। পাশের ফ্যাটে নক করতেই এক কাকিমা দরজা খুললেন। কোহল বলল- “আমি পাশের ফ্ল্যাটে নতুন ভাড়া এসেছি। আলাপ করতে এলাম। ডিস্টার্ব করলাম না তো?” ভদ্র মহিলা বেশ সমাদর করে কোহলকে ঘরে এনে বসালেন, কোহলের সব বৃত্তান্ত শুনলেন, মানে কী নাম, কী করে, বাবা-মা কোথায় থাকেন এইসব। তারপর চা অফার করলেন। কোহল বলল- “না আন্টি, আমি কথা বলতে এসেছি। আপনি চা করতে ব্যস্ত হয়ে যাবেন সেটা আমি চাই না।” মহিলা বললেন- “সে আমার মেইড করবে। তুমি গল্প করো।”
– “আন্টি, এই ফ্ল্যাটে কারো বাড়িতে কালো ডোবারম্যান আছে?”
– “কেন বলো তো?”
– “এই ফ্ল্যাটে বা পাড়ায়?”
– “কী হয়েছে খুলে বলো তো।”
– “আপনারা রাতে কুকুরের ডাক, কুকুরের কান্না শুনতে পান না?”
– “না গো।”
– “সেকি!”
– “তবে শোনো। কালো ডোবারম্যান ছিল তোমার বাড়ির মালিকের। নাম ছিল ব্ল্যাকি। ওঁদের ছেলে ইউকেতে চাকরি করে, মেয়ের বিয়ে হয়েছে ইউএসএতে। ব্ল্যাকি ছিল ওদের বার্ধক্যের সাথী। খুব আদরের কুকুর ছিল। এবারে হল কী, মেয়ের বেবি হতে ওঁরা তিন মাসের জন্য ইউএস চলে যায়। ব্ল্যাকিকে দেখাশোনা, খাবার দেওয়ায় দায়িত্ব দিয়ে যায় আমায়। আমিও রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু, ওঁরা চলে যাবার পরে ব্ল্যাকি আমার হাতে খেত না। সারাদিন কাঁদত। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ত। ঘুম থেকে উঠে আবার কাঁদতে শুরু করত। আমি ওঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করি, বলি, এভাবে তো কুকুরকে বাঁচানো যাবে না। ওঁদের পক্ষে সেই মুহূর্তে ফিরে আসা অসম্ভব ছিল। আমি অসহায়। কুকুরটা ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে ভেটেনারি হসপিটালে ভর্তি করালাম। কিন্তু, তাকে বাঁচানো আর গেল না। তিন মাস পরে, ওই ফ্ল্যাটের ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলা ফেরত এলেন। এসে টিঁকতে পারলেন না। আমাকে বললেন, ব্ল্যাকি নাকি এখনও সারা ঘরময় ঘুরে বেড়ায়!”
– “মানে! কুকুরের প্রেতাত্মা! এসব হয় নাকি?”
– “তুমি বাকিটা শোনো। ওঁরা তারপর থেকে নয় ছেলের কাছে, নয় মেয়ের কাছে গিয়ে থাকতে লাগলেন। কালেভদ্রে দেশে এলে এ বাড়িতে আসেন না। মফস্সলের দিকে কোথায় একটা ছোট ফ্ল্যাট কিনেছেন। ওইখানে থাকেন।”
– “বাবা! এত ভালো জায়গা ছেড়ে মফস্সল!”
– “হুঁ, এই ফ্ল্যাটটা ওঁরা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু, একটা ভাড়াটেও টেঁকে না। সবাই ব্ল্যাকিকে দেখতে পায়! কেউ একমাস, কেউ দু’মাস। তুমিই দেখছি একমাত্র ছমাস এখানে কাটাতে পারলে। আগে এই ফ্ল্যাটের চড়া রেট ছিল। কিন্তু, এখন অনেকেই জেনে গেছে যে ওটা হন্টেড। কেউ এসে একটু খোঁজ-খবর করলেই সব জেনে যাবে। তাই এখন এত সস্তায় দিচ্ছে। তুমি নিশ্চই কোনো খোঁজ-খবর করনি?”
– “দেখুন, আমি ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করি না। হয়তো কেউ কোনো না কোনো ভাবে ওই কুকুরটাকে আমার ফ্ল্যাটে ঢুকিয়ে দেয় বা আগে যারা ভাড়া এসেছিল, তাদের সঙ্গেও এরকম করত।”
– “কে কেনই বা এরকম করতে যাবে? অত বড় একটা কুকুরকে তো আর জানলা গলিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না! তাও তিনতলার ঘর।”
– “এটা কীভাবে করছে আমার কোনো আইডিয়া নেই। তবে এমনও তো হতে পারে, স্বল্প দামে ফ্ল্যাটটা কিনে নেবার জন্য কেউ এগুলো করছে।”
– “বেশ, তুমি অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে গিয়ে একটু জিজ্ঞেস করো। রাতে কুকুর কাঁদলে তারাও তো শুনতে পাবে। তাছাড়া, ব্ল্যাকির ব্যাপারটা সবাই জানে। প্রত্যেক ভাড়াটে ভয় পেয়েছে। ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারপর ঘর ছেড়ে দিয়েছে।”
কোহল ওই কাকীমার কথা মতো সব ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল। সকলেরই প্রায় এক কথা- ব্ল্যাকি নাকি ভূত হয়ে ওই ফ্ল্যাটে আছে। এসব কথা বিশ্বাস করতে হলে তো কোহলকে তার সব পড়াশোনা ভুলে যেতে হয়। কোহল নিশ্চিত কেউ এখানে একটা ষড়যন্ত্র করছে। বা এমনও হতে পারে ফ্ল্যাটের প্রত্যেকটা লোকই সেই ষড়যন্ত্রে সামিল। কোহলের জেদ চেপে গেল। ও ওই ফ্ল্যাটের মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে। যা-ই ঘটুক, ও ফ্ল্যাট ছাড়বে না।
এদিকে তো ঘরে ব্ল্যাকির আনাগোনা বেড়েই চলেছে। কোহল ভয় পাচ্ছে, তাও ভয়কে আমল না দিয়ে ওখানেই পড়ে থাকছে। একদিন রাতের দিকে হঠাৎ কোহলের ঘরে বেল বেজে উঠল। দরজা খুলে দেখে পাশের ঘরের সেই কাকিমা। কোহল ভদ্রতা করে মহিলাকে ঘরে এনে বসাল। উনি বললেন- “কী অবস্থা হয়েছে তোমার আয়নার দিকে তাকিয়ে একবার দেখেছ?”
– “আসলে আমার জবটা খুব চাপের।”
– “তোমার ডবল আমার বয়স। কী থেকে কী হচ্ছে আমি খুব ভালো করে বুঝি। আমি তোমার বাড়ির মালকিনের সঙ্গে কথা বলেছি। একজন পুরোহিত ডেকে ফ্ল্যাটে একটা শান্তি-শস্রায়ন করা হবে। খরচা সব ওঁদের। তুমি এবার বলো কবে সময় দিতে পারবে।”
– “আন্টি, আমি এসবে বিশ্বাস করি না। আমি এখানে ঠিক আছি, ভালো আছি।”
– “কেমন ভালো আছ সে তো দেখতেই পাচ্ছি।”
ভদ্রমহিলা চলে গেলেন।

তারপর আরও সপ্তাখানেক কেটে গেছে। বাড়ির মালকিন একদিন কোহলের ফোন নম্বরে ফোন করলেন। পাশের বাড়ির আন্টির কাছ থেকে মেয়েটির কথা শুনে তিনি বেশ চিন্তিত, কাদের বাড়ির মেয়ে কে জানে, একা একা থাকে, তার নিজেরও তো একটা মেয়ে আছে। যদি ওই ভাড়াটে মেয়েটার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যায় উনি নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারবেন না। কী অদ্ভুত মেয়ে! ভূতের সঙ্গে দিনের পর দিন এক বাড়িতে কাটাচ্ছে! ফোনটা বেজেই চলেছে। মালকিন ভাবছেন, দেশে এখন ক’টা বাজে, খুব রাত করে ফেললেন কি! এমন সময় ফোনটা রিসিভড হল। ওপাড় থেকে কোনো শব্দ শোনা গেল না। মালকিন বললেন- “হ্যালো।” ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ডেকে উঠল। ভদ্রমহিলার গলা দিয়ে বিস্ময়-মিশ্রিত অস্ফুট একটা শব্দ বেরিয়ে এল- “ব্ল্যাকি!”

Ads code goes here
Spread the love

Best Bengali News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is Bengal's popular online news portal which offers the latest news Best hindi News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is popular online news portal which offers the latest news

One response to “রবিবারের গল্প: কোহল সন্ধান”

  1. Joyanta Roychowdhury says:

    খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement