জগন্নাথ কাহিনী: দ্বিতীয় পর্ব

Tuesday, July 2nd, 2019

 পার্থসারথি পাণ্ডা:

ব্যাধের নাম ‘জরা’। সেই ব্যাধের তীরেই মৃত্যু হয়েছিল শ্রীকৃষ্ণের। পুরানকারেরা কেউ বলেন জরা কৃষ্ণের আলতা রাঙা পা দেখে পাখি ভেবে তির ছুঁড়েছিল, কেউ বলেন জঙ্গলে গাছগাছালির ফাঁকে বসে থাকা কৃষ্ণকে হরিণ ভেবে তির ছুঁড়ে হত্যা করেছিল। যুদ্ধ নয়, অসুখে নয়–এই যে হঠাৎ একটা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল কৃষ্ণের, এও ছিল আসলে পূর্ব নির্ধারিত। সে এক ত্রেতা যুগের কাহিনী।

Ads code goes here

ত্রেতা যুগে বিষ্ণুর রাম অবতার। যে সময়ের কথা বলছি, তখন রাম রাজ্য হারিয়ে, রাবণের ছলাকলায় সীতাকে হারিয়ে একেবারে দিশাহারা। চারিদিকে সীতার অনুসন্ধান করছেন এবং সীতা উদ্ধারের জন্য সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এই অবস্থায় তাঁর সঙ্গে আলাপ হল হনুমানের। হনুমান রাম ও লক্ষ্মণ দুই ভাইকে নিয়ে গেলেন সুগ্রীবের কাছে। বানরদের রাজা। কিন্তু সুগ্রীব সেই মুহূর্তে ভারি বিপদে আছেন। তাঁর দাদা বালী ভাইকে ভুল বুঝে হত্যার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। তাই রাজ্য ছেড়ে সুগ্রীব লুকিয়ে আছেন গুহায়। সুগ্রীবকে যদি এই বিপদে সাহায্য করা যায়, তাহলে তিনি সমস্ত বানরসেনা নিয়ে রামকে সাহায্য করবেন সীতাকে উদ্ধারের কাজে। বেশ, রাম রাজি হলেন। বালী ভীষণ রকমের গোঁয়ার এবং দারুণ বীর। তাঁকে বুঝিয়ে নিরস্ত্র করা অসম্ভব। যুদ্ধে হারানোও মূর্খের কল্পনা। সুতরাং, সুগ্রীবকে বাঁচাতে হলে বালীকে হত্যা করতে হবেই। কিন্তু বালীকে রামচন্দ্র হত্যা কি করে করবেন? বালীর সঙ্গে সুগ্রীবের শত্রুতা থাকতে পারে, রামচন্দ্রের সঙ্গে তো নেই। তাহলে? সে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। রামচন্দ্রের দরকার বানরদের সাহায্য, সুগ্রীবের দরকার রামচন্দ্রের সাহায্য। ফলে, একটা ছুতো দরকার। রামকে বোঝানো হল যে, সুগ্রীব যেহেতু রামের বন্ধু, তাই বন্ধুর শত্রু তাঁরও শত্রু। সুতরাং, বালীকে হত্যা করাটা অন্যায় হবে না।

রামচন্দ্রের পরামর্শে একদিন সুগ্রীব বালীকে যুদ্ধের জন্য উত্তেজিত করে ডেকে আনলেন জঙ্গলের মধ্যে এবং মুখোমুখি লড়াই শুরু করলেন। সে এক ছলনার লড়াই, পেতে রাখা ফাঁদ। যে ফাঁদে ধরা দিলেন ব
বালী। বীর বালী যখন প্রায় সুগ্রীবকে হারিয়ে হত্যা করতে প্রায় তৈরি, এমন সময় পিছন থেকে, আড়াল থেকে তির মেরে তাঁকে হত্যা করলেন রাম। এই অন্যায় মানতে পারলেন না বালীর স্ত্রী তারা। তিনি মৃত স্বামীর শরীর ছুঁয়ে অভিশাপ দিলেন রামকে। বললেন, এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবেন বলী পরের জন্মে, সেই জন্মে বালীর হাতেই এমনি তিরবিদ্ধ হয়ে মরতে হবে রামকে। সেও হবে রামচন্দ্রের আর এক জন্মের কাহিনী।

তারার অভিশাপ সত্যি করে রামচন্দ্র জন্ম নিলেন শ্রীকৃষ্ণরূপে, আর বালী জন্ম নিলেন জরাব্যাধরূপে। জরার তিরের আঘাতে মরতে মরতে কৃষ্ণ কিন্তু তাঁকে আর কোন অভিশাপ দিলেন না। বরং বলে দিলেন মুক্তির এক উপায়। সেই ‘উপায়’টির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জগন্নাথ আবির্ভাবের সূত্র, সেই কাহিনী আপনাদের বলব, তৃতীয় পর্বে।

Spread the love

Best Bengali News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is Bengal's popular online news portal which offers the latest news Best hindi News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is popular online news portal which offers the latest news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement