Breaking News
Home / সান-ডে ক্যাফে / গল্প / সম্পর্ক, সতীন্দ্র অধিকারীর অণুগল্প

সম্পর্ক, সতীন্দ্র অধিকারীর অণুগল্প

 সতীন্দ্র অধিকারী

সম্পর্ক

গতকাল রাতে তৃণার বলে যাওয়া কথাগুলো এখনও মেনে নিতে পারছে না অমিত। মানুষের সীমা কতদূর… মুখে কি কিছুই আটকায় না আর! ঘুমচোখে পর্দাটা সরিয়ে চোখ মেলে অমিত। না, এখনও ঝিরঝির করে বৃষ্টিটা পড়ছে। দু-তিন বার মাথায় টোকা মারে অমিত। এখনও পুরো মাথাটা যেন ঝিম হয়ে আছে। কাল সারারাত তিন চার বার বাম লাগিয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। কিন্তু…।

আজ এতগুলো বছর হয়ে গেল। খুব ছোটতেই মা-বাবাকে হারিয়ে মাসির কাছে মানুষ অমিত। কত কষ্ট করে মাসি তাকে বড় করেছে। অর্ক আর তাকে কখনও আলাদা মনে করেনি। মাসিকেই সে মা বলে জানে। মাসির কষ্টের সংসার। সংসারের হাড়ভাঙা খাটুনির পর অমিত দেখতো সারারাত জেগে সমানে স্টাডি করে যাচ্ছে মাসি… চাটায়ের ওপর ডাই হয়ে পড়ে রুরাল লাইব্রেরি থেকে আনা কর্মক্ষেত্র। তারপর একদিন একটা গ্রুপ-ডি’র চাকরি। সংসারে যেন জোয়ার আসে! সেদিন দুই ভাই মিলে মাসিকে গোল করে ঘিরে কত নাচ কত গান!

সবই তো জানে তৃণা। এই দুই বছরের ভালোবাসার সম্পর্কে কতটা কাছাকাছি হয়েছে তারা। কোনও কিছুই তো অজানা নয় তার কাছে! তবুও কেন সে বাক্যের পর বাক্যবান ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারে তাকে। ভালোবাসা যে আনন্দে ভালো থাকা তা কতবার বোঝাতে চেয়েছে! কিন্তু গত রাতের কথাগুলো তার কাছে অসহ্য হয়ে উঠছে! কী তীব্র জ্বালা! অফিসের কোনও এক স্টাফকে নিয়ে মাসির সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য! এ যে কানে শোনাও পাপ! নাকি তৃণার ভয়ংকর ঈর্ষা হয়!

এমন সময় পায়ের শব্দে ঘোর কাটে অমিতের। সামনে অর্ক দাঁড়িয়ে। দাদাকে সে ভালো করেই জানে। অর্ক অমিতের পিঠে হাত রেখে বলে ‘একটা জিনিস কী জানিস দাদা! অনেস্টি ইজ্ দা ওয়ার্স্ট পলিসি!

Spread the love

Check Also

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্য গল্প, দ্বারকানাথের মেজদাদু

 দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:   দ্বারকানাথের মেজদাদু দ্বারকানাথ ভূতে বিশ্বাস করেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস …

তামাকপাতার দেঁজাভু সম্মাননা

 সীমিতা মুখোপাধ্যায়: হরেন দে ওরফে এবং হৃদয় এখন একজন মস্ত বড় কবি। তো দীর্ঘদিন কবিগিরি …

বামেশ্বরের সেকেন্ড ম্যারেজ

 নীলার্ণব চক্রবর্তী রোজই দ্বিপ্রহরে ঝিলে স্নান করতে যান বামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পিছন পিছন ধাওয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *