Breaking News
Home / TRENDING / রাজনীতির আঙনে, শিল্পী আসেন মাগনে

রাজনীতির আঙনে, শিল্পী আসেন মাগনে

মূল হিন্দি রচনা : শরদ জোশী

অনুবাদ : পার্থসারথি পাণ্ডা

যখনই কোন কবি বা শিল্পী রাজ্যসভার সদস্যপদের জন্য মনোনীত হন; তখনই মনে প্রশ্ন ওঠে, তাঁরা সেখানে গিয়ে করবেনটাই বা কি? যাচ্ছেনই বা কেন? কোন উদ্দেশ্যেই বা তাঁকে সেখানে ডেকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে? প্রত্যেকবারই এসব প্রশ্ন শুধু প্রশ্ন হয়েই থেকে যায়, যেভাবে সেই কবি বা শিল্পীরা নিছক সদস্য হয়েই থেকে যান! সুদূর অতীতে, হিন্দি সাহিত্যের বিখ্যাত কবি মৈথিলীশরণ গুপ্ত এবং অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুর রাজ্যসভায় যখন সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন, তখনও আমার মনে এই প্রশ্নই উঠেছিল। আজও ওঠে।

কবি বা শিল্পী রাজ্যসভার সদস্য হয়ে লোকসভা টাইপের জেল্লাদার হাওয়ায় ঘুরে ফিরে বেড়ান, অনাবশ্যক কিছু নমস্কার কুড়োন, ধর্মের ঘট হয়ে কয়েকটা চেয়ার দখল করেন, আর কি করেন? এসির শৈত্যে আরাম করেন, আলটপকা নেমন্তন্নে কেতার্থ হন, আনুষ্ঠানিক আড়ম্বরে অনাবশ্যক অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তারপর? কিছু ঢপবাজ বন্ধু জোটে, ঘোরেন ফেরেন, তাপ্পি মেরে হাসেন আর নিয়ম মেনে প্রধানমন্ত্রীকে সেলাম ঠোকেন। এছাড়া তাঁদের আর করারই বা কি আছে?

এঁদের মধ্যে যদি কেউ কবি বা লেখক হন, সেখানে চাক্ষুষ যা দেখেন, মুখোশের আড়ালে ভণ্ডামি এবং অন্তর্বিরোধ; সে-সব কলম খুলে লিখতেও পারেন না! পদের দায় বড় দায়! তবু যদি কুল বাঁচিয়ে লিখতেও চান, সে আর পাতে দেবার যোগ্য হয় না। বাজেট পেশের সময় মৈথিলীশরণ গুপ্ত প্রতিবারই এই বিষয়ে একটি করে পদ্য লিখে রাজ্যসভায় শোনাতেন। তাই নিয়ে মিনিট দশেকের একটি তামাশা হতো, এই মনোরঞ্জনটুকুর বাইরে তাঁর আর কোন অবদান ছিল না।

ধরুন, কোন সেতারবাদক রাজ্যসভার সদস্য হলেন। সেতার বাজানো ছাড়া তিনি আর কি করবেন? জানি না রাজ্যসভায় সেতার নিয়ে ঢোকার অনুমতি পাবেন কি না। না হয় ধরে নিলাম, পেলেন। কিন্তু তাতেও সমস্যা। ধরুন, হট্টগোলের ফাঁকে তাঁর কোন গৎ বাজানোর বাই উঠল, তখন সঙ্গতে তবলিয়া পাবেন কোথায়? ভাবুন তো, এটা কত বড় সমস্যা!

তাই আমি বলি কি, সংগীতজ্ঞের সঙ্গে তবলাবাদক, কবি বা চিত্রকরের সঙ্গে সমালোচক, অভিনেতা বা অভিনেত্রীর সঙ্গে পরিচালক ও ক্যামেরাম্যান, উঠতি মডেলের সঙ্গে ফটোগ্রাফার সদস্য করে পাঠানোর নিয়ম করা উচিত। এতে রাজ্যসভার কোন লাভ হোক বা না হোক, তাঁদের অন্তত লোকসান হবে না! তাতে জলসা হবে নিরন্তর, দেশ চলবে ছুমন্তর!

জীবনের যে সময়টায় কোন কবি বা শিল্পীরা নিজেদের সেরা কাজগুলো করতে পারেন, তখন তাঁদের রাজ্যসভার ছাউনির নীচে বসিয়ে কার লাভ হয়? দেশের, শিল্পের বা সংস্কৃতির? কিংবা ঐ কবি বা শিল্পীর? আমার বক্তব্য হচ্ছে, রাজ্যসভায় পায়ের ধুলো দিয়ে এইসব শিল্পী, সাহিত্যিক বা অভিনেতারা কোন সোনার ফসলটা ফলিয়েছেন? ওনাদের আগমনে শিল্প-সাহিত্য-সিনেমা বা রাজ্যসভায় কোন স্বর্ণযুগের আবাহন হয়? শুধু কি রাজ্যসভা? লোকসভা বা বিধানসভার ক্ষেত্রেও এই একই হাল, একই হকিকত। অন্যত্র যাঁদের দেশোদ্ধারী মুখ চলে, এখানে এসে সেই তাঁরাই হয়ে যান নির্ভেজাল চুপ। চলতে থাকে চুপ-সংস্কৃতির নিরন্তর রহস্যময় পরম্পরা! ফারাকটা শুধু সাম্মানিক আর নির্বাচনিক–এই টুকুই।

Spread the love

Check Also

ঝাড়খণ্ডে ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি, আত্মবিশ্বাসী রঘুবর

নিজস্ব প্রতিবেদন:   ঝাড়খণ্ডে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। এমনকি নিজের কাজের প্রতি রয়েছে অগাত বিশ্বাস। …

গোলাপি বলে ঐতিহাসিক টেস্ট ইডেনে, শহর জুড়ে বেষ্টিত কড়া নিরাপত্তা

সূর্য সরকার:   ক্রিকেটের নন্দনকাননে গোলাপি বলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচ। শহরজুড়ে চড়া …

পার্শ্ব শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসুন, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

সূর্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন নিয়ে মুখ খুললেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *