Breaking News
Home / TRENDING / শাহের কোভিড-খবরে তড়িঘড়ি শুভেচ্ছা মমতার, সুসম্পর্কের বার্তা প্রেরণ? উঠছে প্রশ্ন

শাহের কোভিড-খবরে তড়িঘড়ি শুভেচ্ছা মমতার, সুসম্পর্কের বার্তা প্রেরণ? উঠছে প্রশ্ন

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :

অমিত শাহের করোনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি আরোগ্য কামনা করে টুইট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Minister) অমিত শাহের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে কার্যতঃ শাহের দলের বা সরকারের কেউ শুভেচ্ছা জানানোর আগেই টুইট করে দেন মমতা (Mamata Banerjee)। রবিবার দুপুরে অমিত শাহ তাঁর করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কথা জানান। রবিবার বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ হিন্দিতে টুইট করে অমিত শাহ (Amit Shah) লিখেছেন, “প্রাথমিক ভাবে আমার শরীরে কিছু উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। তারপরই আমি টেস্ট করাই। তাতে রিপোর্ট এসেছে পজিটিভ। আমার শরীর একদম ঠিক আছে। কিন্তু তবু চিকিৎসকদের পরামর্শে আমি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছি। সম্প্রতি যাঁরা আমার সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁরা যেন প্রত্যেকে আইসোলেটেড থাকেন এবং কভিড পরীক্ষা করান।” তাঁর টুইট প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির আরোগ্য কামনায় টুইট করেন মমতা। যখন বিজেপি (BJP) নেতারাও অমিত শাহের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জেনেও‌ সুস্থতা কামনা করে টুইট করে উঠতে পারেননি। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “এইমাত্র শুনলাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি কভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তাঁর ও তাঁর পরিবারের মঙ্গল কল্যাণার্থে ঈশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থনা রইলো।”

এমন দ্রুত টুইটের পর জাতীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, অমিত শাহের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণ আগেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান কংগ্রেস (Congress) সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী (Sonia Gandhi)। তিনদিন ধরে তিনি দিল্লির স্যর গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রবিবার তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় চিকিৎসকরা ছেড়ে দেন। তিনিও গুরুতর অসুস্থ, তাই তাঁকে প্রায়ই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হলেও সনিয়া গাঁধীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় কখনও টুইট করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো।

এই টুইটকে তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব পারস্পরিক সৌজন্য বলেই ব্যাখ্যা করেছে। তবে রাজনৈতিক মহল মমতার এ হেন সৌজন্য সহজ ভাবে দেখার পক্ষপাতী নয়। রাজনৈতিক সৌজন্য রাজনৈতিক প্রয়োজন ছাড়া হয় কি? বিশেষ করে মমতার মত নেত্রীর ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন আরও প্রবল হচ্ছে। দু’দিন আগেই রাজ্যের বর্ষীয়ান নেতা সোমেন মিত্র পরলোক গমন করেছেন। রাজনৈতিক প্রয়োজনে এক সময় সোমেনের বাড়ি ছুটে এসেছিলেন মমতা। আর এখন তাঁর মরদেহে নিজের হাতে ফুল টুকু দেওয়ার সময় হয় না তাঁর!সৌজন্যের আর কোনও দায় নেই বলেই কি এমন ব্যবহার? রাজনৈতিক মহলে উঠছে এমন অপ্রিয় প্রশ্ন। মমতা টুইটে লিখেছেন, যে তিনি ‘এইমাত্র’ শাহের অসুস্থতার খবর পেয়েছেন। এখান থেকেই স্পষ্ট, বার্তা পাঠাতে তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেন নি।
মমতা ঝানু রাজনীতিক।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ দখলের জন্য আগ্রাসী হয়ে উঠছে। বিভিন্ন বিষয়ে মমতার দল ও তাঁর সরকারের প্রতি মোদি-শাহ জুটির মনোভাব অনড়। শাহের অসুস্থতায় চটজলদি আরোগ্য প্রার্থনা করে আবার কি সুসম্পর্কের বার্তা দিলেন মমতা? উঠছে প্রশ্ন।

Spread the love

Check Also

নির্বাচনী সুখবর : ভোটে গরম আকাশে আবার ফিরছে চড়াই

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :   দু’দশকের আগের সময়। শহরের বাড়ি ভরে থাকত ছোট্ট পাখির কিচিরমিচির …

Khela Hobe : সরকার গড়লে বিজেপির সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী অশোক লাহিড়ীর বক্তব্য, মানুষের সঙ্গে খেলা আমার পছন্দ নয়

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :   1971 সাল। উত্তাল নকশাল আন্দোলনের সময়। এ রাজ্য ছেড়ে চলে …

তারকেশ্বর মন্দিরের ববি-বিতর্ক এবার জ্বালামুখী তে, গর্জে উঠলেন স্বামী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :   তারকেশ্বর মন্দিরের পরিচালন সমিতির মাথায় মমতা ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিম কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!