Breaking News
Home / TRENDING / “সিপিএম আন্তরিক হলেই জোট সম্ভব”, প্রদীপ-মান্নানকে জানালেন সোনিয়া

“সিপিএম আন্তরিক হলেই জোট সম্ভব”, প্রদীপ-মান্নানকে জানালেন সোনিয়া

নীল রায়।

প্রকাশ্যে আন্তরিকতা দেখালে তবেই সিপিএম (CPM) তথা বামেদের সঙ্গে জোট সম্ভব। বৃহস্পতিবার ১০ জনপথ রোডে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য (Pradip Bhattacharya)। লোকসভা ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় পৃথকভাবে এই দুই নেতাকে সোনিয়া জানিয়ে দেন, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা চাইলে আন্তরিকতা দেখিয়ে প্রকাশ্যেই হাত ধরতে হবে সিপিএম তথা অন্য বামদলগুলিকেই। সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একসঙ্গে রাজনৈতিক পথ হাঁটলে তবেই ২০২১ সালে চূড়ান্ত জোট সম্ভব।

প্রসঙ্গত, বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানাতেই রাজ্য কংগ্রেসের দুই বরিষ্ঠ নেতা যান সোনিয়ার কাছে। দরবার করেন রাজ্যে বিজেপির উত্থান ও তৃণমূলের আগ্রাসন রুখতে বামেদের সঙ্গেই হাত ধরাই কংগ্রেসের পক্ষেই শ্রেয়। মাস কয়েক আগে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একই দাবি করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র (Somen Mitra)। পৃথকভাবে দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর সোনিয়া সাফ জানিয়ে দেন, বামেদের হাত ধরতে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু উদারতা দেখিয়ে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিন বাম নেতারা।

সাক্ষাতের পর বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান (Abdul Mannan) বলেন, “ম্যাডাম বলেছেন সিপিএম যদি আন্তরিকতা দেখিয়ে জোট চায় এবং রাজনৈতিক ভাবে রাস্তায় নেবে কংগ্রেসের সঙ্গে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চায়। তাহলে জোট করতে কোনও অসুবিধা নেই।” সোনিয়ার এমন মন্তব্যের পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারন ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে সিপিএম ও কংগ্রেস পরস্পরের হাত ধরাধরি করে বিধানসভা ভোটের লড়াই করলেও, পরে সেই জোট ভেঙে যায়। লোকসভা ভোটের জোট প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা অনেক দূরে এগিয়েও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গিয়েছিল। তাই ২০২১ সালের লোকসভা বিধানসভা ভোটে যাতে জোট প্রক্রিয়ায় কোনওরকম খামতি না থেকে যায় সেদিকেই মন দিতে চান সোনিয়া গান্ধী। তাই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দুই শিবিরের নেতাদের পরস্পরের সঙ্গে দীর্ঘ কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় সংসদের তৃণমূলের (TMC) সঙ্গে ফ্লোর কো-অর্ডিনেশন করে এগোতে চাইলেও, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ভিন্ন রণনীতি নিতে চায় এআইসিসি (AICC)। তা অবশ্য এদিনের বৈঠকে প্রদীপ ভট্টাচার্য ও আবদুল মান্নানকে বুঝিয়ে দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। রাজ্যে আসন্ন তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো পরস্পরের হাত ধরে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে বামেরা। কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কংগ্রেস। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই তিন বিধানসভা উপনির্বাচন কংগ্রেস সিপিএম জোটের কাছে হতে চলেছে অগ্নিপরীক্ষা!

Spread the love

Check Also

ঝাড়খণ্ডে ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি, আত্মবিশ্বাসী রঘুবর

নিজস্ব প্রতিবেদন:   ঝাড়খণ্ডে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। এমনকি নিজের কাজের প্রতি রয়েছে অগাত বিশ্বাস। …

গোলাপি বলে ঐতিহাসিক টেস্ট ইডেনে, শহর জুড়ে বেষ্টিত কড়া নিরাপত্তা

সূর্য সরকার:   ক্রিকেটের নন্দনকাননে গোলাপি বলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচ। শহরজুড়ে চড়া …

পার্শ্ব শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসুন, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

সূর্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন নিয়ে মুখ খুললেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *