Breaking News
Home / সান-ডে ক্যাফে / কমলেশ পালের গুচ্ছ কবিতা

কমলেশ পালের গুচ্ছ কবিতা

 কমলেশ পাল:

 

কেউঞ্ঝরে ব্রহ্ম ঝরে

 

অনেক দিনের প্ররোচনা, চৈত্রে কুসুম বৃক্ষ হবো

কলেজস্ট্রিটের মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে যাবো হাজার শাখায়

অজস্র লাল পদ্যপাতা দারুণভাবে ঝলমলিয়ে

কৃষ্ণচূড়ার চোখ টাটাবো

 

কী যে হল কেউঞ্ঝরে

তিন দেওয়ালের পাথরঘরে আকাশ থেকে ব্রহ্ম ঝরে

লাল ধুয়ে যায়… ময়লাসবুজ ছাতিম বানায়, জাদু করে

ঘিরে ধরে আমলকী-কেন্দ আত্মীয়জন

 

ভিজে গ’লে প্ররোচনার কিচ্ছুটি নেই

কেবল ঝাড়িঝাঁটি-পাথর চতুর্দিকে দেয় পাহারা

পর্যটনের সীমার বাইরে হাঁরিভাঙার ব্রহ্মপ্রপাত

আমার ছাতিম মাথার উপর

 

কেউঞ্ঝরে ব্রহ্ম ঝরে, অন্ধকারে গন্ধ লিখি

……………..

 

ভাবছি ফাঁস ছুঁড়ে দেবো

 

ভাবছি ফাঁস ছুঁড়ে দেবো অরণ্যের দিকে

আমার পাঁজর টপকে ভালবাসা পালিয়েছে

ঘোটকীর মতো

 

বুনো ছিল, বদমেজাজি ছিল

আদরের মতো ক’রে কচি ঘাস দিয়ে তাকে

মানাতে পারিনি কোনোদিন

যতোবার বল্গা পরিয়েছি

ততোবার ছিঁড়ে নাস্তানাবুদ করেছে হাহাকার

 

মমতা বুলাতে গিয়ে খুরের আঘাত খেয়ে

কতো যে রক্তাক্ত ওষ্ঠে আমি

মধ্যরাতে বাঁশি বাজিয়েছি

প্রতিটি পাঁজর খুলে

গান গেয়ে তাকে ঘিরে বেড়া সাজিয়েছি…

জোচ্ছনা গলায় চাঁদ ডাক দিল আর

আমার পাঁজর টপকে অরণ্যের দিকে ছুটে গেল!

 

ভালবাসা বুনো ছিল, বদমেজাজি ছিল

ভালবাসা ছুটে যাচ্ছে অরণ্যের দিকে জোচ্ছনায়…

ভাবছি ফাঁস ছুঁড়ে দেবো অরণ্যের দিকে

……………………..

 

বটচ্ছায়া বেশি প্রয়োজন

 

এদ্দিনে আমার মনে বোধোদয় হল

নির্বাচন গণতন্ত্র পঞ্চায়েত না-মারিয়ে আর

প্রতিটি গ্রামীন বুথে বটগাছ লাগানো দরকার—

খুনির দখল থেকে সব গ্রাম ছায়ার দখলে চলে যাক।

 

ঘর জ্বলে, কাঁচা পথ রক্তে জবজবে

বোমাতে পিস্তলে এত উন্নতি ঘটালো গাঁগেরাম?

দু’সালের বাচ্চা সেও রেহাই পাচ্ছে না

তাঁরও খুলি ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে

উন্নতির সিসে।

 

এ হেন উন্নতি! প্রাণ চায়

পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তরের নির্বাচনে

জল মেরে, লালন-গানের সাথে খমক বাজিয়ে

বটগাছ পুঁতে চলি আমি।

 

খুলিতে গুলির চেয়ে হয়তো-বা গাঁয়ের বাচ্চার

বট-চ্ছায়া বেশি প্রয়োজন।

………………..

 

ছাতা সারাইওলা

 

রাজহংসী সাঁতার কাটিছে…

ভাঙা ছাতিদলসাথে সেই ক্রীড়া দেখিতেছি আমি

সক্রোধ ঝাঁপালো জলে আকাশ-ভল্লুক অকস্মাৎ

জীবনে দেখিনি আমি এ-হেন লোমশ বৃষ্টিপাত

রজহংসী-ভল্লুক-সাক্ষাত!

 

দুঃখে ছুঁচ ঢুকে যাচ্ছে… সূত্র নাহি তাতে

কল-কেটে ছটকে যাচ্ছি, আমি আর না-ররো আমাতে

তবে যদি বাঁধে লটারিতে… ছাতার সমিস্যে নিয়ে

রাজহংসী যদি… উঠে পড়ে ঝিলপাড়ে…

আহা রে, আহা রে…

 

সে আনন্দে নিজেকে মেলিব বারেবারে

অর্থহীন হয়ে আছি ছাঁট–ছত্রি বিছানো সংসারে

কী সব কদর্য ছাতা, একটিও ফুলছাপা মনোরমা বরাতে জোটে না

বড়ো দুঃখ: রাজহংসী ছাতা নিয়ে সাঁতার কাঁটে না।

……………

 

লাইফ-লাইন তারের উপরে

 

এপাশে জন্মের খুঁটি, ওপাশে মৃত্যুর

যে পুঁতেছে সে-জনের না-চাহিদা মজুরি জোগাতে

হিমসিম নন্দরানি, গোপী ও গোপাল

অযথার্থ গড়ি

 

যথার্থ কেবল ওই দোয়েল পাখিটি

যে এসে বসেছে ভোরে লাইফ-লাইন তারের উপরে

একটি অমোঘ শিস নিয়ে

 

 

Spread the love

Check Also

রবিবারের কবিতা, মিহির সরকার

 মিহির সরকার মৃত  চন্দ্রবোড়া তখন আমাদের নিত্য-নতুন ভাঙা-গড়ার খেলা আমাদের নিয়ে বাতাসে বাতাসে রঙিন গল্প-বেলা …

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’

 সৌমিককান্তি ঘোষ   কাশীনাথ বামুন কাশীনাথ দরজা খুলতেই পশ্চিমের পড়ন্ত আলোয় মায়ের মুখটা চিক্ চিক্ …

রবিবারের গল্প, ‘মেরা মেহেবুব আয়া হ্যায়’

 সীমিতা মুখোপাধ্যায়   মেরা মেহেবুব আয়া হ্যায় “দিদিমুনি ও দিদিমুনি, দরজা খোলো!” হরিকাকার গলা। হরিকাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *