‘বর্ষামঙ্গল’, উন্মাদ জলের ডায়েরি, যখন ‘বৃষ্টি আসলেই নিজেকে স্পষ্ট দেখা যায়!’

Sunday, August 18th, 2019

 সুভান

বর্ষামঙ্গল – ২
তুমুল বৃষ্টি পড়ছে। রাতের দিকে এমন বৃষ্টি পড়লেই নিজেকে কেমন যেন আরও স্পষ্ট দেখা যায়। আরও স্বচ্ছ দেখা যায়। মায়ের গা থেকে আলো ছিটকে আসে। ঘর জুড়ে যদিও তীব্র অন্ধকার।পাড়ার একটা ফেজ উড়ে গেছে আর দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বাড়িসহ দু-তিনটে বাড়িতে কারেন্ট নেই। অন্ধকার ঘরে মোমের আলোয় লিখতে বসলে ছোটবেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। হ্যারিক্যানের আলো কেমন গা বেয়ে-বেয়ে উঠত। অক্ষরে অক্ষরে মল্লযুদ্ধ লেগে যেত প্রায়। প্রাইমারি স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটির কাজ, হাতের লেখা। পাতার পর পাতা। ভাড়াবাড়ির টালির চালের ওপর ঝুঁকে থাকা কামিনীগাছের থেকে ঝরে পড়া সাদা ফুলের মধ্যেও একরকম বর্ষা এসে জমাট বেঁধে থাকত। জানলায় ঝুলিয়ে রাখতাম ম্যাজিক পর্দা। পর্দায় এসে বসত জোনাকি। মনে হত শয়ে শয়ে নক্ষত্র নেমে এসেছে। যেহেতু আকাশ মেঘলা আর বুক ভারী। এদিকে হ্যারিক্যেনের আলো কমে আসছে ছোটবেলার। যাদের ছোটবেলা, কুপির তেল পোড়া গন্ধে কাটে তাদের কাছে জোনাকি আসলে একটা খেলা। আলোর সঙ্গে অন্ধকারের খেলা। সেই অন্ধকারের মধ্যে বসে থেকে জোনাকি-দেখা আলোর মধ্যেই যে একটা রূপক এসে লুকিয়ে পড়বে কে জানত। “অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো, সেই তো তোমার আলো”। কথাগুলো বলতে গিয়ে অস্পষ্ট হচ্ছি আবার। বৃষ্টি কি থামল? আমি কিন্তু এখনও কামিনী ফুলের ঘোর থেকে বেরতে পারিনি। আমার অন্ধকারের একমাত্র সাদা, আমার কথাবেলার অস্ফুট কথামালা। মায়ের মতো সাদা।
আমার কথা যদিও আজকাল ফুরিয়ে আসে এত সহজে অথচ এই আমিই একদিন পাড়াতুতো জেঠুদের ভিড়ে ঢুকে পড়তাম। তর্কে ঝড় তুলে বেরিয়ে আসতাম চুপ করে। বান্ধবীদের ভিড়ে ভাঁড় হয়ে হাসি হতাম। স্কুলফেরত সুলতান হতাম। কিন্তু সময় একটা সংকট তৈরি করে আর তার বৃত্তে আমাদের ছেড়ে দিয়ে ভারি আনন্দ পায় সে। যদিও আমরা ছোটবেলায় শিখেছিলাম অন্যের খারাপ সময়ে হাসতে নেই। অন্যের খারাপ সময়ে হাসতে নেই শিখতে গিয়ে আমরা কবে যে নিজেদের খারাপ সময়েও হাসতে নেই-তে বিশ্বাসী হয়ে উঠলাম। চোখ বন্ধ করে রাখতে রাখতে এখন অন্ধজনের কাছেও উপহাসের পাত্র হতে হয়। তেমনই একটা খারাপ সময়ের গল্প বলার জন্য এত কথার পিঠে কথা। গল্পটা আসলে একটা কামিনী ফুলের ঝরে যাওয়ার গল্প। আবার ছোটবেলার আঁকা একটা কাগজের নৌকা, হঠাৎ ঘরের সামনে জমা জলে ভেসে ওঠার গল্প বলা যায়। একটা চাঁদ কুড়িয়ে পাওয়ার গল্প। একটা ছেলেবেলার ছাদ ফুরিয়ে যাওয়ার গল্প। এককথায় বলতে গেলে একটা হারিয়ে যাওয়া গল্প। বৃষ্টি থেকে থেকেই বাড়ছে আরও। পাড়ায় ইতিমধ্যে জল জমতে শুরু করেছে। আর ঘণ্টা খানেক বৃষ্টি হলেই ফি-বছরের মতো ঘরে জল ঢুকবে আর মা-বাপি ঘরের সমস্ত বাক্স পত্তর যা যা খাটের নিচে আড়াল করে রাখা হত সব বিছানায় তুলতে শুরু করবে আর এই নতুন দ্বীপ সাম্রাজ্যের একমাত্র সম্রাট আমি। বিছানার ঠিক মাঝখানে বসে অবাক হয়ে দেখতাম, একজন নারী আর একজন পুরুষ তাদের ঘর ভেসে যাওয়াগুলো দু’হাতে আটকে রাখতে চাইছে। পুকুর উপচে জল ঢুকছে বড় রাস্তায়, বড় রাস্তা থেকে এপাড়ার গলি হয়ে জল এখন ঘরের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু জলে নামার অধিকার ছিল না আমার এই রক্তকরবীর সাম্রাজ্যে।
সেই তো আমি জলের কাছেই বারবার ছুটে গেছি, নদী খাল বিল, দুপুর বেলার নির্জন পুকুর পাড়ে মাছের সঙ্গে গল্প করতে গেছি, শালুক তুলতে গিয়ে শামুক তুলে এনেছি, হড়কে গেছি মেয়েলি বুকে, গাছের আড়াল থেকে স্নান দেখেছি কিশোরীর। জলকে এভাবে কি আলাদা করা যায় আমার থেকে। এই যে ভাসতে ভাসতে কত ঘাটের জল খেয়ে ফের নতুন কোনও ঘাটে সওদাগরের জাহাজের মাস্তুল এঁকে দিয়েছি দিকশূন্যপুরে একথা কেউ জানল না। মা তো বুঝলোই না। খোকা বড় হয়ে গেছে একথা কোনও মায়েরাই মানতে চায় না। মায়ের শীতল দেহের জলের ভেতরেও আমার থাকতে ভালো লাগত। ইচ্ছে করে আবার জরায়ুর নদীপথে তোমার জলকোটোরে গিয়ে পাখি হয়ে ভাসি। হাঁটু মুড়ে ঘুমিয়ে পড়ি পুনরায়। মায়ের শরীর থেকে কামিনীগাছের গন্ধ বের হয়। ছেড়ে আসা ভুলে যাওয়া সেই কবেকার ভাড়াবাড়ির পিছনের কামিনীগাছের কাছেও আমার দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে ভালো লাগত। যেমনটা আমার প্রিয় কোনও বান্ধবীর শরীরী গাছের ছায়ায় বসে থাকতে ভালো লাগে। বুকে ভাঁটফুলের বুনোগন্ধ। জড়িয়ে ধরলেই কনকচাঁপা। ঠোঁট ছাড়িয়ে নিলে লবঙ্গলতিকা। বর্ষার কাছে এর চেয়ে বেশি লুকোচুরি ভালোলাগে না। প্রিয় জিনিস হাতছাড়া হয় মেঘের আধিক্য হলে, ঘনঘন বৃষ্টিতেও মনখারাপও একঘেয়ে লাগতে থাকে। যেভাবে একদিন তোমাকে চাইতে চাইতে আমার প্রিয় চশমা হারিয়ে ফেললাম আমি।

Ads code goes here

০৮.০৭.২০১৯

বর্ষামঙ্গল – ৫
“কেন তুমি নিজেকে বার বার এইরকম জল করে দাও? যাতে যে কেউ এসে পা দিয়ে গুলিয়ে ঘোলা করতে পারে!” (জয় গোস্বামী)

এই যে মাঝরাতের শহরে সবাই একা একটা জলাশয়ের কাছে উবু হয়ে বসে থাকে, নিজেরই ছায়াকে দেখে আঙুল দিয়ে ঘেঁটে দেয়। এই জলাশয়ের ভেতরে আশ্চর্য মদের গন্ধ। এই জলাশয়ের ভেতরে বছর একুশের কিশোরী। তবে কি ছায়া জলের কাছে শরীর চেয়ে বসে প্রথম সাক্ষাতেই? সারারাত্রি টহল দেয় বাঁশিওয়ালা। আলো জ্বলে তিনতলার কুহকে। বাতাসে শব্দ নেই। শুধু তিব্বতি পতাকায় শান্তির কথা লেখা থাকে। কানে ভেসে আসে, কেন বারবার নিজেকে এভাবে জল করে দাও সুভাষ?
নেশা কাটছে ধীরে ধীরে। নেশার পায়ে ধরি আমি। নেশায় পেলে আমি বদলোক। অক্ষরের কাছে যতটা আপাত নিরীহ রোগা হাত। ততটাই। থাকবো না থাকবো না করেও তোমার নিদমহলে এসে শুয়ে পড়ি। নেশায় সিফনের পর্দা টেনে ধরি বুকের। তোমার বুকের এই পাতলা চামড়ায় আমাকে কোথায় লোকাবে সোহাগ? দেখো, এই মধ্যরাতের বর্ষামঙ্গল স্তন ছুঁয়ে যাচ্ছে তোমার। শোনো, মিঞামল্লার দেহসঙ্গীতে কী করুণ বেজে উঠছে, কাচের পানপাত্র ভেঙে ফেলা আসলে কি প্রতীক? এভাবে কুটুমবাড়িতে কাচ ভাঙলে পাড়ায় যে চর্চা হবে। পানপাত্রে বৃষ্টি জড়ো হবে হঠাৎ। এক টুকরো কাচই তো পারে ভাঙনের দাগ চিনিয়ে দিতে, বলো। হাতে ফুটলে রক্ত নীল হয়ে যাবে। চোখে ফুটলে অন্ধ-অন্ধ, কালো। একটুকরো কবিতাই পারে নিজেকে নিংড়ে কেয়া পাতায় নৌকো ভাসিয়ে দিতে। নোঙর ফেলে কোথাও তো আটকে যাবেই জীবন। আমাকে একলা করে পেতে চাইলে দরজা খুলে যাবে ঠিক। বর্ষাতির ভেতরে আতর ভরে ডেকো। ডাকনাম বেজে উঠবেই। একটানা বৃষ্টিতে আঙুল সাদা হয়ে উঠছে, গোলাপি রঙ, নখের কোনায় মিনাকারী করা। কিন্তু কোনও অক্ষরেই আর তোমার শরীরের ভাঁজ ফুটিয়ে তুলতে পারছি না।
পাহাড়ি অবসাদে ধ্বস নেমেছে তিস্তাসরণিতে। তলিয়ে যেতে যেতে যেভাবে চোখের আড়াল হয় প্রেম। ডুবুরি কখনও ডুবে যাওয়া মৃত মানুষের স্বপ্ন ফিরিয়ে আনতে পারে? আষাঢ় শ্রাবণ মানেই নদীমাতৃক বিপর্যয়। স্কুল ডুবে যাচ্ছে, খেলার মাঠ ডুবে যাচ্ছে আর অক্ষর ডুবে যাচ্ছে নিজস্ব বর্ষায়। এত জলের ভেতর দাঁড়িয়ে তুমি কিন্তু ঠিক ভাসিয়ে দিতে পারছ হিসেবের ডিঙি। কথায় হারাচ্ছ ঠোঁট। লয় কমে আসছে, উচ্চারণ লঘু। বৃষ্টি হলে যেমন হয় আর কী! কেন বলো তো সম্পর্কগুলো আলগা হলে আঙুলে স্যাঁতস্যাঁত করে। পাহাড়ি বাঁকে পাথর ভেঙে পড়ে… তলিয়ে যায়… তলিয়ে যায়… কথারাও যেভাবে তলিয়ে যায় আর তাদের মৃতদেহ ভেসে ওঠে শহর ছাড়িয়ে বাইরে কোথাও… অন্যকোথাও একা…।

১২.০৭.২০১৯

বর্ষামঙ্গল – ৬
“মেরে লালা, আজ না যাইয়ো, যমুনার পার।
অধীর বিজুরিয়া, গগন ঝম্পিয়া
দশদিশা হইল আন্ধার।”

ক্রমশ আন্ধার গড়িয়ে আসছে সুধী। এই আন্ধার পেরিয়ে কাঁহাতক তরীপার হবে… এই গ্রামীণ নদীর কাছে এসো বসি। ফিকে পড়শির হাত ধরে শূন্যে উড়ে যাই। আমার নিদ্রায় এসে লাগুক নিমফুল। ভেতরে ভেতরে চাষের শুষ্কজমি হয়ে শুয়ে থাকি, সমাধিফলকে নাম মুছে সংখ্যা লিখি নিজের। আয়ু থেকে নিজেকে টাঙিয়ে রাখা খুঁটি। যেভাবে হালভাঙা মাঝি নৌকাযোনিতে শঙ্খফুল সাজিয়ে রাখে। শ্রমজল নেমে আসে পোড়াপুরুষের ছাইয়ে। নদীর ভিজে মাটির ঘ্রাণ কখনও মিথ্যে বলে না। তাই ভ্রমণজন্মজন্মান্তরের কাছে বোবাকান্না লিখি আমি, তুমিও চা-বাগানের খিদের ভেতর দিয়ে অচেনা নদীটির স্রোতে ভেসে যাও, অথচ কবির জীর্ণ পিঠের ওপর ঘুমিয়ে পড়া মেয়েটির আজ জলে মন নেই। মন তো ভাসমান মতিঝিল। মাঝাবাড়ি অঞ্চল গত তিনদিন ধরে কাঁচাজলের তলায়। হাঁটুঘরে একমন জল। স্রোতের নিচেই পুরনো দিনের মতো খাবি খায়। এমন জলের শব্দ শ্রুতিতে বিষ রাখে যেন। ওই বিষণ্ণ মেয়েটির চোখে আজ ঘুম নেই কেন? পিঠের ওপর এখনও খানিকটা বর্ষাকাল ঝুঁকে আছে তার নরম আবহাওয়ায়। ডুয়ার্সে ট্রেন চলাচল বন্ধ বলে কি প্রেম দেব না সুভাষ? নদীর কাছে যেও না আজ। বৃষ্টি হচ্ছে ভোর থেকে। কে জেগে আছে…!
নিজের ভেতরে মেঘ না জমলে বৃষ্টি হয় না। মেঘ জমতে জমতে পাথর হয়ে যায় ফিরতি পথ। যার আঙুলে বৃষ্টি হওয়ার ঠিক হবেই, পাগল জানে সব। নদী-সুমারির শেষে কিছু নিখোঁজ দেহ ভেসে উঠবেই। আজ জলের এতটা কাছে থেকো না সুজন। এই আবহাওয়া ক্রমশ মানুষকে নির্বোধ করে দেয় ভালোবেসে। ঝাঁপ দিতে বলে নিজেরই গ্লানিতে। ভোরের জানলায় বৃষ্টি চুইয়ে পড়ে। পরকীয়া ফুলের পরাগ ছুঁয়ে ঘুমিয়ে পড়ে রাত, তার ভোর জেগে থাকে কোন দোসরের বুকে। দেহসরোবরে পদ্ম ফোটে আদিম বিশ্বাসে।
আর এই কালো জলে ডুবিব না সনাতন।
কিছুতেই ডুবিব না।
তবু ভয় হয় খুব।
ও জল…
আমাকে একদিন ঠিক ডুবিয়ে মারবে তুমি… একদিন বাঁশির সুরে পালা জাগাবে সারারাত। খুব কেঁদে উঠবেই নিতাই বাউল। দূরের দর্জিপাড়ায় আলো ডুবছে দেখো। আজানের কাছে ডুবে যাচ্ছে বৃদ্ধ হাঁটুজল। মাথার ওপর তোমার চাঁদোয়া সামান্য ছিঁড়ে গেছে। আরও একবার রিফু করে বর্ষাটুকু চালিয়ে নেওয়া যাবে বলো? সত্যির কাছে এই তো আমার অপরাধ আর বোধ। সাঁতার ফুরিয়ে আসছে। এদিকে বর্ষার জল ক্রমশ বেড়েই চলেছে বুকে…।
“স্রোতে যায় ভেসে, ডোবে বুঝি শেষে, করে দিবানিশি টলোমল ॥/ আমি কোথা যাব, কাহারে শুধাব, নিয়ে যায় সবে টানিয়া।/একেলা আমারে ফেলে যাবে শেষে অকূল পাথারে আনিয়া।

“১৩.০৭.২০১৯

বর্ষামঙ্গল – ৭
সজলদা নেই। সজলদা ছিল না কোনোদিন। কাগজের চত্বর থেকে যেভাবে অক্ষর খসে যায়, শহরের ভেতর একটা একটা হাত আজও শুধু আঙুল হাতড়ে কাঙাল সেজে থাকে। যে হাত নিজেকে রঙের কাছে, রেখার কাছে স্থির করে রাখে, সেই হাতই পুড়িয়ে মারে একা উন্মাদকে। দিনের শেষে আমরা সবাই কিন্তু সজল। কোনও না কোনও দরজা খোলার অপেক্ষায় এক জীবন দৌড়ে বেড়াই। অপেক্ষায় মরে যাই। তবু দরজা খোলে না। কত মনের দরজাও যে এভাবে খোলেনি সজলদা। বলতে পারবে, এই দরজা খোলার অপেক্ষায় কতক্ষণ ঝুলে থাকে জীবন? যে কোনও গন্তব্য আসলে একটা পাতালঘর। মেট্রো টানেল। এই যেমন নিজেকে খুঁড়তে খুঁড়তে অক্ষরপাঠের জন্য বৃষ্টিভেজা কিশোরীর নরম আঙুল ছেড়ে এলাম।
কবি উত্তম দত্ত একবার কবিতায় বলেছিলেন। ‘দরজা খোল অনিমেষ’। তবু কি দরজা খোলে? খোলে না। খোলেনি। কোনও দরজাই খোলে না আর আমরা অর্ধেকটা হাত ঢুকিয়ে দিয়ে ঝুলতে থাকি। আজীবন এই বাহির আর ভেতরের মাঝে যন্ত্রণা খুলে বিলি করতে করতে আমরা বলে উঠি, নেবেন? মাত্র পাঁচ টাকা ? নিন… কলকাতার আকাশ আজ রোদে পুড়লেও, সজলঘন মেঘে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
কিশোরীজলের কাছে আমারও একজীবনের তৃষ্ণা ঢাকা পড়ে, পালক থেকে বাতাস নামিয়ে রাখা এই চেয়ে থাকার ভেতরে তুমিও কিন্তু মনের দরজা খুললে না সুজন। ওই যে তোমাকে ছুঁয়েছি। একবার মাত্র ছুঁয়েছি। আর সমানে কাচের দরজার এপার থেকে বলে গেছি, মিনতি করি, দরজা খোলো। এ জীবন যন্ত্রণার। এইভাবে ছিঁড়ে যেতে পারছি না সুজন। কাচের দরজা কথা শোনে না। এপারের কোনও কথা ওপারে শোনা যায় না।। শুধু একজন নির্বাক অভিনেতা কি সুন্দর মরে যাওয়ার অভিনয় করছে, কি নির্ভুল ভাবে ভেতরে আসতে চাওয়ার আকুতি করছে। যেভাবে বর্ষার কাছে, তোমার দেহমনের বাতাস ভারী হয়ে আসছে, বৃষ্টিতে হাত বাড়িয়ে আমিও তোমার মতোই দরজা খুলতে বলেই চলেছি সজলদা… দরজা কিন্তু খুলছে না।

১৪.০৭.২০১৯

……………. 

সুভানের জন্ম ১০ই জানুয়ারি, ১৯৮৮, শিলিগুড়িতে। কৈশোর জীবন কেটেছে হাওড়া জেলায়। বর্তমানে শিলিগুড়িতে থাকেন। প্রথম লেখা প্রকাশ ২০০৬। এযাবৎ তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘ঈশ্বরহীন স্তবক ও এথিওস কবিতাগুচ্ছ’ (ধানসিড়ি, ২০১৫),  ‘কাচের সংলাপ’ ( ধানসিড়ি, ২০১৭), ‘হোমসিক এরর’ ( আদম, ২০১৮)। কবিতা লেখার পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা, বলা যায় পেশা ও ভালোবাসা ছবি আঁকা। এই তরুণ কবি রবীন্দ্রসঙ্গীত ও বাংলা লোকগান শুনতে, এইসঙ্গে পাহাড়, নদী ও জঙ্গলের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন।

Spread the love

Best Bengali News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is Bengal's popular online news portal which offers the latest news Best hindi News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is popular online news portal which offers the latest news

One response to “‘বর্ষামঙ্গল’, উন্মাদ জলের ডায়েরি, যখন ‘বৃষ্টি আসলেই নিজেকে স্পষ্ট দেখা যায়!’”

  1. Writabrata Guha says:

    মুগ্ধ হলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement