Breaking News
Home / TRENDING / মলম-রাজনীতি

মলম-রাজনীতি

মূল হিন্দি রচনা : শরদ জোশী

অনুবাদ : পার্থসারথি পাণ্ডা

ঘা-টা এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আসলে, সেটা একেবারে দগদগে হয়ে গেছে। আমরা শুধু ভাবি, কারণটা যাই হোক না কেন, যা হবার ছিল, তাই হয়েছে!

বিতর্ক এখন ঘা নিয়ে নয়, মলম নিয়ে। ঘায়ে মলম লাগানোটা জরুরি কি না, তাই নিয়ে! এক পক্ষের ধারণা, ঘা আপনা আপনি শুকিয়ে যাবে। তাদের ভয়, মলম লাগানোর তদারকি করতে গিয়ে ঘা আবার না বেড়ে যায়!

দ্বিতীয় পক্ষের প্রশ্ন : বাজারে তো মলমের কমতি নেই। তাই লাগাতে হলে, কোন মলম লাগানো হবে? আর সেটা লাগাবেই বা কে? মলম লাগানোর ব্যাপারে এরা মোটেই তাড়াহুড়ো করার পক্ষপাতী নয়। তারা চায়, ঘায়ের ধরণটা বুঝে নিয়ে কোন মলম লাগালে কাজ হবে, সেটাই শুধু জানতে। তবে একটা ভয়ও রয়েছে, দেরি করলে অন্য কোন পক্ষ এসে যদি এই সুযোগে মলম লাগিয়ে দেয়, তাহলেই তো কিস্তিকাবার, খেলা শেষ!

আর এক পক্ষের মত : সার্জারি না করলে এ ঘা কিছুতেই সারবে না। শুধু মলম মাখিয়ে সারিয়ে দেব ভাবাটা নেহাতই বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়! বলতে কি, ঘায়ের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে সেই লোকগুলোকে খুঁজে বার করা উচিত, যারা ঘা-টা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তৈরি করেছে! সেই কারণটির খোঁজ নেওয়া উচিত, যা থেকে ঘা হয়েছে। তার আগে কিছুতেই বলা যাবে না যে, মলম না সার্জারি, কোনটাতে কাজ হবে!

এইসব বাগবিতণ্ডা যখন চলছিল, ঠিক তখনই খবর এলো, ঘা ঠিক হতে শুরু করেছে! এক পক্ষ অমনি বলে বসল, “নিজে থেকেই যখন ঠিক হতে শুরু করেছে, তখন মলম লাগানোর দরকারটাই বা কি?” দ্বিতীয় পক্ষ তখন বলে উঠল, ঘা যেমনই হোক না কেন, “মলম যাই হোক না কেন, লাগিয়ে দেওয়া হোক, ভবিষ্যতে কেউ যেন বলতে না পারে যে, ঘায়ে মলম লাগানো হয়নি!”

ইতিমধ্যে একটা আশঙ্কার প্রশ্নও উঠল : যার ঘা হয়েছে, সে কি চায় মলম লাগাতে দিতে? সে যদি মলমকে মলম না ভেবে, নতুন একটা ঘা ভেবে বসে! তখন? আবার, সে যদি মলম লাগাতে দিতে রাজি হয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে, তার মলমের চাহিদা কতটা? নয়তো একবার চাহিদামতো মলম পেয়ে গেলে সে আরও মলম চেয়ে বসতে পারে। এদের বিশ্বাস নেই!

মলমের পথ চেয়ে ঘা যখন একটু একটু করে শুকোতে শুরু করলো, তখনই শুরু হয়ে গেল এক নতুন খেলা।

যার ঘা হয়েছিল, তার কাছে হাজির হল গিয়ে সমব্যথীপক্ষ! তারা জিজ্ঞেস করলো, ”ওহে খবরটা কি সত্যি, তোমার ঘা হয়েছে?” উত্তর এলো, “হ্যাঁ”। সমব্যথীরা অমনি উৎসাহে উত্তেজিত হয়ে বলল, ”তাহলে আমাদের বলো, কোথায় কোথায় তোমার ঘা হয়েছে!” যে ঘা নিয়ে ঘুরছিল, সে তার ঘা দেখালো।

”শোন, ঘা কিন্তু শুকোতে দেওয়া যাবে না। ওটাকে বরাবর টাটকা রাখা চাই! যদিও এতে আমরা মলম লাগিয়েই তবে ছাড়ব। তবে, নিতান্তই না পারলে, ঘা-টাকে টাটকা ঘা বলে চালিয়ে দেব। ওতে সেই মলমটাই লাগাব, যেটা আমরা লাগাতে চাই। কিন্তু এই সবকিছুর জন্য ঘা-টা টাটকা রাখা একান্তই জরুরি।” বলেই সমব্যথীপক্ষ চলে গেল।

এখন সমস্যা দাঁড়ালো দুটো— মলমও লাগতে হবে, আবার ঘা-টিকেও টাটকা রাখতে হবে!

Spread the love

Check Also

ঝাড়খণ্ডে ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি, আত্মবিশ্বাসী রঘুবর

নিজস্ব প্রতিবেদন:   ঝাড়খণ্ডে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। এমনকি নিজের কাজের প্রতি রয়েছে অগাত বিশ্বাস। …

গোলাপি বলে ঐতিহাসিক টেস্ট ইডেনে, শহর জুড়ে বেষ্টিত কড়া নিরাপত্তা

সূর্য সরকার:   ক্রিকেটের নন্দনকাননে গোলাপি বলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচ। শহরজুড়ে চড়া …

পার্শ্ব শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসুন, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

সূর্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন নিয়ে মুখ খুললেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *