Breaking News
Home / TRENDING / টিএমসি রাজনীতি করছে কিন্তু সত্যজিৎ আমার মতুয়া ভাই : শান্তনু ঠাকুর

টিএমসি রাজনীতি করছে কিন্তু সত্যজিৎ আমার মতুয়া ভাই : শান্তনু ঠাকুর

নীল রায়

গৌরী শঙ্কর দত্ত কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! যাই বলুন না কেন? কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যুতে আমরা এক নমঃশূদ্র ভাইকে হারিয়েছি। এমনটাই বললেন মতুয়া মহাসংঘের নেতা শান্তনু ঠাকুর। শনিবার রাতে সত্যজিত বিশ্বাসের খুন হওয়ার পরেই নদীয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ষড়যন্ত্রে এই খুন। সরাসরি না বললেও, সোমবার সত্যজিৎ বিশ্বাসের বাড়িতে এসে তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে একই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অবশ্য সরাসরি মুকুল রায়ের নাম না করলেও, ঘুরপথে তাকেই অভিযুক্ত করেছেন। কিন্তু বনগাঁ ঠাকুরবাড়ির আগামী প্রজন্ম শান্তনু এমন অভিযোগ মানতে নারাজ। তার কথায়, “সত্যজিতের মৃত্যু আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখের। মতুয়া সমাজের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সে যথেষ্ঠ উজ্জ্বল ছিল। মতুয়া সমাজের এক প্রতিনিধির এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা কখনই কাম্য নয়। গৌরী শঙ্কর দত্ত যে সমস্ত অভিযোগ করছেন তা ভিত্তিহীন। এমন‌ অভিযোগ করেছেন তিনি, যার ফলে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও হতে পারে।” তিনি আরো বলেন, “গৌরী শংকরবাবুরা নদীয়াতে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে এখন যাকে তাকে‌ অভিযুক্ত করছেন। আসল কথা গৌরী শংকরবাবুর তো কিছুই হারায়নি। হারিয়েছি আমরা আমাদের এক নমশূদ্র ভাইকে।” মঞ্জুল কৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট ছেলে শান্তনু মতুয়া রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। ঠাকুরবাড়ির বিভাজনের রাজনীতিতে পিতা মঞ্জুলকৃষ্ণের ব্যাটন এখন তারই হাতে। ২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার ক্ষেত্রে মুকুল রায়ের পাশাপাশি অন্যতম বড় ভূমিকা ছিল শান্তনু ঠাকুরের। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীকে বড় মা বীনাপানি দেবীর সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে বহু বাধা পেরোতে হয়েছিল শান্তনুকে। কিন্তু শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী বড়মা বীণাপাণি দেবী সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছিলেন মূলত তারই উদ্যোগে। সত্যজিৎ বিশ্বাসের মৃত্যুর পর তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিতে মুকুল রায় ও বিজেপিকে অভিযুক্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এক্ষেত্রে শান্তনু পাল্টা চাল দিয়েছেন প্রয়াত সত্যজিৎকে নিজের নমশুদ্র ভাই বলে পরিচয় দিয়ে। গৌরী শঙ্কর দত্তর অভিযোগ প্রসঙ্গে শান্তনু বলেন, “নদীয়াতে গৌরীশঙ্কর দত্তরা রাজনৈতিক জমি হারিয়েছেন তা প্রমাণ করেছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। ওই জনসভায় নদীয়া থেকে বিরাট অংশের মতুয়া সমাজের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। মতুয়া সমাজ প্রায় ৩০-৪০ বছরের বেশি সময় ধরে উদ্বাস্তু আন্দোলন করে আসছে। যে রাজনৈতিক দল আমাদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করবে, মতুয়াদের সমর্থনও থাকবে তাদের দিকেই।” তিনি আরো বলেন,”যারা এতদিন কেবল মতুয়াদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে তাদের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।‌ ঠাকুরনগরের প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় নদীয়া জেলা থেকে প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে আগামী লোকসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলায় কি ফলাফল হবে। সেই কারনেই বিজেপি এমনই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন তৃণমূল নেতারা।” শান্তনু ঠাকুরের এহেন মন্তব্য যে তৃণমূল শিবিরকে লক্ষ্য করেই, তা এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ির একাংশ।

Spread the love

Check Also

রাজ্যপালের সুপারিশে, রামনাথ কোবিন্দের অনুমোদনে মহারাষ্ট্রে জারি রাষ্ট্রপতি শাসন

ওয়েব ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে জারি হল রাষ্ট্রপতি শাসন। সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা না কাটায় …

লতা এখনও হাসপাতালে, তবে সঙ্গীতই শিল্পীকে দ্রুত সুস্থ করে তুলছে

ওয়েব ডেস্ক: বিপদের সময় সঙ্গীতই শিল্পীর পাশে দাঁড়াল। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, লতা মঙ্গেশকরের শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক …

হায়দরাবাদে ২ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, দেখুন ভয়ঙ্কর সেই ভিডিয়ো ফুটেজ

ওয়েব ডেস্ক: হায়দরাবাদে ঘটে গেল ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। মুখোমুখি সংঘর্ষ হল দুটি ট্রেনের। মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *