কামাল করলেন স্টিম্যাক

Saturday, June 8th, 2019

প্রসেনজিৎ মাহাতো:

ভারত ১ ( অনিরুদ্ধ)‌                  থাইল্যান্ড ০

Ads code goes here

‌জানুয়ারিতে এশিয়ান কাপে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪-‌১ গোলে হারিয়েছিল স্টিফেনের কোচিংয়ে থাকা ভারতীয় ফুটবল দল। সেটা যে ফ্লুক ছিল না, প্রমাণ হয়ে গেল ছয় মাসের মধ্যে কিংস কাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে। শনিবার বুরিরামের চ্যাং এরিনায় থাইল্যান্ডকে ১‌-‌০ গোলে হারাল ইগর স্টিম্যাকের নবীন ব্রিগেড। ১৭ মিনিটে আদিল খানের মাইনাসে পা ছুঁইয়ে গোল করেন অনিরুদ্ধ থাপা। এদিনের জয়টা অনেক বেশি কৃতিত্বের, কারণ ভারতের ক্রোয়েশিয়ান বিশ্বকাপার কোচ স্টিম্যাক ভরসা রেখেছিলেন মূলত এক ঝাঁক নতুন ফুটবলারের ওপর। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার সুনীল ছেত্রীকে খেলানোর প্রয়োজনই মনে করেননি। গোল করিয়ে ও রক্ষণে স্তম্ভের মতো থাইল্যান্ড আক্রমণ রুখে দিয়ে আদিল খান বোঝালেন, ৭ বছর পর তাঁকে জাতীয় দলে ডেকে ও খেলার সুযোগ দিয়ে কোনও ভুল করেননি স্টিম্যাক। অনিরুদ্ধ গোল করার পাশাপাশি একবার গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দলকে বাঁচিয়েছেন। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ১‌-‌৩ গোলে হারার পরও ভারতীয় কোচ স্টিম্যাক তাঁর ফুটবলারদের ওপর আস্থা হারাননি। বিশেষ করে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তাঁর মনে ধরেছিল। বলেছিলেন, খেলায় যে ভুলগুলো হয়েছে, তা শুধরে নিয়ে থাইল্যান্ড ম্যাচে আরও ভাল খেলা দরকার। থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক সেট নতুন ফুটবলারকে খেলার সুযোগ দেবেন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের আগে তাদের ক্ষমতা বুঝে নিতে। তাঁর উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল। কুরাসাও ম্যাচে খেলা সন্দেশ, বেকে, শুভাশিস ছাড়া থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে গোল থেকে আক্রমণভাগ, সব স্থানেই বদল এনেছিলেন। আক্রমণভাগে বলবন্ত সুবিধা করতে না পারলেও, অনিরুদ্ধ অনবদ্য। বলবন্তের জায়গায় পরে নেমে মনবীরও থাইল্যান্ড রক্ষণের অস্বস্তি বাড়ালেন। কুরাসাও ম্যাচে মাঝমাঠে প্রণয় ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাঁর জায়গায় রেনিয়ার ও অমরজিতে ভরসা রেখে ফায়দা তুললেন স্টিম্যাক। গত ম্যাচে রক্ষণের নড়বড়ে ভাবে ডুবতে হয়েছিল। এদিন আদিল খানের সংযুক্তি গোটা রক্ষণের জমাট ভাব একটা অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। তাতেই থাইল্যান্ড আক্রমণ দাঁত ফোটাতে পারেনি। গোল করলেই শুধু হবে না, গোল বাঁচানোর মুনশিয়ানাও যে সমানভাবে থাকতে হবে, সেটা তাঁর ফুটবলারদের বোঝাতে পেরেছেন স্টিম্যাক অল্প দিনের প্রস্তুতিতে। আর তাই ম্যাচ শেষে স্টিম্যাক বলেন, ‘‌আমার ফুটবলারদের অভিনন্দন। এদিন জয় দুর্দান্ত ডিফেন্ডিংয়ের সুফল। আমি উঁচু পর্যায়ের একজন ডিফেন্ডার ছিলাম। দু’‌সপ্তাহ ধরে আমার সেই অভিজ্ঞতা দলের ফুটবলারদের সঙ্গে শেয়ার করেছি। বোঝাতে চেষ্টা করেছি, কীভাবে খেলতে হবে, মাঠে সেভাবে প্র‌্যাকটিসও করিয়েছি। গোল পাওয়ার পর ফুটবলারদের বলেছিলাম, মাথা ঠিক রাখতে। এলোমেলো না খেলতে। থাইল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের চাপ বাড়িয়েছিল। নিজেদের অর্ধে বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাকের সময় ডিফেন্ডাররা সতর্ক থাকায় কোনও বিপদ ঘটেনি। উল্টে আমরা যে দু–‌তিনটে সুযোগ পেয়েছিলাম, তা কাজে লাগালে ম্যাচটা অনেক আগেই পকেটে চলে আসত। তবে এদিন আরও একঝাঁক ফুটবলারকে দেখে নেওয়া গেল। এটা বড় প্রাপ্তি।’‌ মজা করে স্টিম্যাক বলেন,  সকলেই এতটা উজাড় করে দিয়েছে, দলে সব পজিশনে কম্পিটিশন এমন প্রবল, কোচ হিসেবে দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে বড় অসহায় লাগছে।
ভারত:‌ অমরিন্দার, শুভাশিস, সন্দেশ, বেকে, আদিল, বিনীত, রেনিয়ার (‌সাহাল)‌, অমরজিৎ, ফারুক (জ্যাকিচাঁদ)‌, অনিরুদ্ধ, বলবন্ত (মনবীর)‌।

Spread the love

Best Bengali News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is Bengal's popular online news portal which offers the latest news Best hindi News Portal in Kolkata | Breaking News, Latest Bengali News | Channel Hindustan is popular online news portal which offers the latest news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement